
ডজনের বেশি দেশের বাজার থেকে বাচ্চাদের জন্য বানানো পুষ্টিকর খাদ্যপণ্যের কয়েকটি ব্যাচ ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন নেসলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফিলিপ নাভরাতিল।
বিশ্বজুড়ে একাধিক দেশে তাদের ইনফ্যান্ট ফর্মুলা (শিশুদের জন্য বানানো দুগ্ধজাত পণ্য) নিয়ে সতর্কতা জারি হওয়ার পর ভাবমূর্তি রক্ষার খাতিরে নেসলে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে; নাভরাতিলের ভিডিও বার্তা তার একটি, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বাজার থেকে বেবি ফুড ফিরিয়ে নেওয়ার এ ঘটনা চীনসহ ইনফ্যান্ট ফর্মুলার বড় বড় সব বাজারে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা সুইস এই জায়ান্টের অবস্থান দুর্বল করবে বলেই মনে হচ্ছে।
এ ঘটনা মাত্র কয়েক মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া নাভরাতিলকেও ‘সঙ্কট মোকাবেলার পর্বে’ নিয়ে যাবে। ব্যবস্থাপনায় তুমুল অস্থির সময় পার করা বহুজাতিক কোম্পানিটিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে তাকে প্রধান নির্বাহী পদে বসানো হয়েছিল।
সেরিউলাইড নামের একটি বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতির কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য দুষণের কথা বিবেচনায় নিয়ে নেসলের ইনফ্যান্ট ফর্মুলা বাজার থেকে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ খবরের পর ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া ও আফ্রিকার অন্তত ৫৩টি দেশ স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে। সেরিউলাইড বমি ও বমিভাব সৃষ্টি করতে পারে।
জানুয়ারিতে পণ্য ফিরিয়ে নেওয়া শুরু করার পর নেসলের শেয়ারের মূল্য প্রায় ৪ শতাংশের মতো পড়ে গিয়েছিল। বুধবার তা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ উঠেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
পণ্যের লাভ-লোকসান যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নেসলের ঘুরে দাঁড়ানো নিশ্চিত করতে চাওয়া নাভরাতিল শিশু ফর্মুলা প্রত্যাহার অভিভাবক, স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও অন্যান্য ক্রেতাদের মধ্যে যে ‘উদ্বেগ ও বিঘ্ন’ সৃষ্টি করেছে তার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই ভিডিওতে তিনি বলেন, এসএমএ, বিইবিএ, এনএএন ও আলফামিনো ফর্মুলার যেসব ব্যাচ ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অসুস্থতার খবর পাওয়া যায়নি। শীর্ষস্থানীয় এক সরবরাহকারীর দেওয়া আরকাইডোনিক এসিড তেল (এআরএ) নামে পরিচিত এক উপাদানের মান নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়ার পর, তা থেকে সম্ভাব্য দূষণের আশঙ্কায় এই ব্যাচগুলো ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ডিসেম্বরে নেদারল্যান্ডসে এক কারখানায় ওই উপাদান নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয় নেসলে, এরপরই তারা সাবধানতার অংশ হিসেবে একাধিক ইউরোপীয় দেশ থেকে পণ্য ফিরিয়ে নেওয়া শুরু করে, বলেছেন নাভরাতিল।
“ওই সরববরাহকারীর কাছ থেকে এআরএ তেল নেওয়া বন্ধ রেখেছি আমরা। আরেক সরবরাহকারীর কাছ থেকে নেওয়া নিরাপদ তেল ব্যবহার করে উৎপাদন পুনরায় শুরুও হয়েছে,” বলেছেন নেসলের এক মুখপাত্র। যে সরবরাহকারীর কাছ থেকে তেল নেওয়া বন্ধ হয়েছে তার নাম বলেননি তিনি।
২০২৪ সালে নিজেদের বার্ষিক প্রতিবেদনে ক্যাবিও বলেছিল, তারা নেসলের মতো বড় বড় গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও সম্প্রসারিত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
নেসলের সরবরাহ চেইন বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত থাকার কারণে বাজার থেকে কিছু পণ্য প্রত্যাহারের খবর দ্রুতই ইউরোপ থেকে ব্রাজিল, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বড় দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
নেসলে চীনের শিশু ফর্মুলা বাজারের সবচেয়ে বড় খেলোয়াড। এ বাজারের আকৃতি প্রায় দুই হাজার ৬৫০ কোটি ডলার বলে ধারণা চীনকেন্দ্রিক দাশুয়ে কনসাল্টিংয়ের।
চীনের রাষ্ট্রীয় বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা দিনকয়েক আগে নেসলেকে ‘তাদের প্রতিষ্ঠানগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন’, বেবি ফুডের সংশ্লিষ্ট ব্যাচ বাজার থেকে তুলে নেওয়া ও ভোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগাদা দিয়েছে।
চীনা কর্তৃপক্ষের এমন চাপের বিষয়টি নজরে পড়ার কথা জানিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বার্কলেজের বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা চীনের বাজারে নেসলের ‘ভয়াবহ ক্ষতির’ কারণ হতে পারে।
এ ব্যাপারে চীনা মায়েরা ব্যাপক সংবেদনশীল, কেননা এর আগেও অনেক কোম্পানির দুধে এমন দুষিত পদার্থ পাওয়া গিয়েছিল।