
ময়মনসিংহ ব্যুরো : বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সরকারে গেলে আমারা মসজিদদের ঈমাম খতিব সাহেবদের সম্মানী দিতে চাই, যাতে করে তারা ভালো জীবনযাপন করতে পারে। তিনি বলেন বলেন, ‘জলাধার খাল বিল উদ্ধারের মাধ্যমে আমরা আবার খাল খনন করবো।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস ময়দানে ময়মনসিংহ বিভাগীয় নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহের কৃষিতে অনেক সমস্যা রয়েছে, ময়মনসিংহে মাছের পোনা রপ্তানি করে কর্ম সংস্থান করতে চাই। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সার-বিষ কৃষি সহযোগিতা করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই নেত্রকোণা শেরপরসহ বিভিন্ন জায়গায় মাদক সমস্যা রয়েছে। আমরা এ মাদক সমস্যা সমাধান করতে চাই, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যুবসমাজকে তৈরি করতে হবে। ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।’
চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নয়নের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমারা এলাকার চিকিৎসা সমস্যা সমাধানে জেলা হাসপাতালকে বড় করতে চাই। হেলথকেয়ারে নিযুক্ত করার মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যবস্থা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই।’
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, একটি দল বলছে—বিএনপি দুর্নীতি করেছে। ২০০১ থেকে ২০০৭ সালে পর্যন্ত তাদের দুজন মন্ত্রী ছিলেন। তারা কেন সেই সময় পদত্যাগ করে চলে আসেনি। কারণ তারা জানত, খালেদা জিয়া কখনোই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেননি। এটা আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত। যারা এখন এসব বলছেন, তারা নিজেদের বিরুদ্ধেই বলছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেছেন, আগামী ১২ ফ্রেরুয়ারি ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন আপনারা। কেন এই অধিকার দরকার? আগামী দিনে জনগণের ইচ্ছায় যাতে সরকার চলতে পারে, সেজন্যই দরকার ভোটের অধিকার।
তারেক রহমান বলেন, এই এলাকায় বিভিন্ন সমস্যা ছিল। কোনো সমস্যার সমাধান হয়নি। কারণ ভোটে নির্বাচিত সরকার ছিল না। আমি-ডামির নির্বাচন ছিল। তাই জনগণের কথা শোনার মতো কেউ ছিল না।
তারেক রহমান আরও বলেন, দেশের অর্ধেকের বেশি নারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে আমরা এগোতে পারব না। এজন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলছি, যাতে একটু হলেও পরিবারের সমস্যা সমাদান হয়। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সার, কিটনাশক পৌঁছাতে চাই; যাতে কৃষক ভাইয়েরা একটু একটু করে দাঁড়াতে পারেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমি খাল খনন করব। কে কে থাকবেন? আমি থাকব আপনাদের সঙ্গে। এ সময় দলটি সরকার গঠন করতে পারলে কী কী উদ্যোগ নেবে তা সংক্ষেপে উল্লেখ করেন তিনি।
জনসভায় চার জেলায় ধানের শীষের ২৪ জন প্রার্থীকে পরিচয় করে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, তাদের নির্বাচিত করতে পারলে আপনার এলাকার উন্নয়ন হবে। আপনারা আপনাদের অধিকার বুঝে নেবেন। তার আগে আপনারদেরকে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, তাহাজ্জুত পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন, যাতে ধানের শীষের বিজয় হয়। আপনারা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়বেন। অন্য ধর্মের যারা আছেন, তারাও সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে যাবেন। ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে চলে এলে হবে না। কেউ যাতে ভোট লুটপাট করতে না পারে, সেজন্য পাহারা দিতে হবে।
নির্বাচনি এ জনসভায় তারেক রহমানের সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। এতে বিএনপির মনোনীত সংসদ প্রার্থীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন ও নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা তারেক রহমানের ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা জনগণের মাঝে তুলে ধরেন এবং ময়মনসিংহবাসীর ব্যাপক সাড়া পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নেতারা। তাদের মধ্যে ছিলেন—সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, লুৎফুজ্জামান বাবর, ওয়ারেস আলী মামুন, আবু ওয়াহাব আকন্দ, ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন, জাকির হোসেন বাবলু, মোতাহার হোসেন তালুকদার, ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন, শামিম তালুকদার, সানসিলা জেবরিং পিয়াংকা, মাহমুদুল হক রুবেল, ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, ডা. আনোয়ারুল হক, আবু তাহের তালুকদার, রফিকুল ইসলাম হিলালী, সুলতান মাহমুদ বাবু, আকতারুল আলম ফারুক, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, ইয়াসির খান চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ও ফাহিম চৌধুরী।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ চৌধুরী আব্দুল্লাহ ফারুক, এডভোকেট আরিফা জেসমিন নাহিন, রাকিবুল ইসলাম রাকিব, ড. শামসুজ্জামান মেহেদী, নিলুফার চৌধুরী মনি, আব্দুল বারী ড্যানী, সিরাজুল ইসলাম ও আফজাল এইচ খান।
সমাবেশের সার্বিক সমন্বয় করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম। সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জনাব জাকির হোসেন বাবু।
সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব রুকনুজ্জামান সরকার ও ময়মনসিংহ উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব মোতাহার হোসেন।
সমাবেশে বিপুল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।