
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এখনো কোন কোন মহল চেষ্টা করছে যে কিভাবে ভোটকে বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত করা যায়। তাদের বিভিন্ন লোকজন গিয়ে বিশেষ করে যারা মা বোন আছেন তাদের কাছে গিয়ে বিভিন্নভাবে এনআইডি নাম্বার নেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের বিকাশ নাম্বার নেওয়ার চেষ্টা করছে। এইভাবে করে তাদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আপনারা যারা মা বোনরা আজকে এখানে উপস্থিত আছেন, ভাইয়েরা যারা উপস্থিত আছেন, আপনারা আপনাদের ঘরে গিয়ে এরকম যদি কোন ঘটনা হয়ে থাকে সেই ব্যাপারে মা বোনদেরকে সতর্ক করবেন। আপনারা মুরুব্বিদেরকে সতর্ক করবেন। যারা ভোটের আগেই এইসব অনৈতিক কাজ করতে পারে, তারা যদি সুযোগ পায় কিভাবে তারা দেশকে বিক্রি করে দিবে এই বিষয়ে তাদেরকে (মুরুব্বিদের) সতর্ক করতে হবে।
তিনি শনিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলে নির্বাচনী সভায় বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন।তারেক রহমান বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচন শুধু নির্বাচনের দিন হলে চলবে না। এই নির্বাচনের দিনটি হতে হবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দিন। এবং সেই জন্যই বাংলাদেশের ইতিহাসে এই নির্বাচনটি একটি অন্যতম গুরুত্ব বহন করে। স্বাভাবিকভাবেই গত ১৫-১৬ বছর আমরা দেখেছি আমাদের সারা বাংলাদেশে গ্রামে-গঞ্জে, আনাচে কানাচে মানুষ বিভিন্নভাবে বঞ্চিত হয়েছে। এলাকার উন্নয়ন থেকে, মানুষের বিভিন্ন দাবি দাওয়া থেকে বিভিন্নভাবে বঞ্চিত হয়েছে। আমরা দেখেছি ঢাকা শহরসহ কিছু বড় বড় শহরে কিছু মেগা প্রজেক্ট হয়েছে। কিন্তু একই সাথে আমরা দেখেছি মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতিও হয়েছে সেই সময়ে। আমরা যেমন খুন দেখেছি, গুম দেখেছি, মিথ্যে মামলা দেখেছি, গায়েবি মামলা দেখেছি, ঠিক একইভাবে আমরা প্রচণ্ড রকম দুর্নীতিও দেখেছি। মেগা মেগা দুর্নীতি দেখেছি আমরা সেই সময়ে। এই অবস্থার পরিবর্তনের সময় চলে এসেছে। এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। কিন্তু এই অবস্থার পরিবর্তন যদি করতে হয়, ঠিক পাঁচ তারিখে, পাঁচ তারিখে দল মত নির্বিশেষে বাংলাদেশের জনগণ যেমন রাজপথে নেমে এসেছিল, ঠিক একইভাবে আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে আপনারা যারা ভোটার, আপনাদের সকলকে ভোট কেন্দ্রে নেমে আসতে হবে। কারণ, আমরা যদি পাঁচ তারিখের সেই পরিবর্তনকে আমরা চালু না রাখি অর্থাৎ ১২ তারিখে ভোট দিয়ে যদি আমরা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ভিত্তির উপরে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারি, তাহলে আমরা যে গণতন্ত্রের ভিত্তি রচনা করতে চাচ্ছি, যেই গণতন্ত্র সুশাসন নিশ্চিত করবে, যেই গণতন্ত্র মানুষের অধিকার বাস্তবায়ন করবে, যে গণতন্ত্র মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে, সেই গণতন্ত্র আবার বাধাগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যমে যাতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করা যায়, জনগণের নিকট জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত করা যায়, তার জন্য জনগণকেই সামনে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ, এই বাংলাদেশ কিভাবে চলবে, কিভাবে চলবে না, বাংলাদেশে কি হবে হবে না, তার সিদ্ধান্ত নেবার মালিক এই দেশের জনগণ। কারণ, এই দেশের মালিকই হচ্ছে এই দেশের জনগণ। আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের প্রার্থীরা আপনাদের সামনে তাদের স্ব স্ব এলাকার বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করেছে। ১২ তারিখে আপনারা ধানের শীষকে নির্বাচিত করলে ইনশাল্লাহ ১৩ তারিখে ধানের শীষ তথা বিএনপির সরকার গঠিত হলে আপনাদের এলাকার যে দাবিগুলো আছে পর্যায়ক্রমিকভাবে সেই উন্নয়নমূলক কাজগুলো আমরা শুরু করব।
তারেক রহমান বলেন, এই টাঙ্গাইল অঞ্চল একটি অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল। টাঙ্গাইলে বিভিন্ন রং ডিজাইনের শাড়ি আছে। এই শাড়িকে আমরা যদি চেষ্টা করি, পরিকল্পিতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করি তাহলে বাংলাদেশের গার্মেন্টসের জামা কাপড় যেরকম বিদেশে পাওয়া যায়, এই শাড়িকেও আমরা একইভাবে বিদেশে রপ্তানি করতে পারব। এই টাঙ্গাইল থেকে টুপি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যায়। যে নামাজ পড়ি, আমরা নামাজ পড়ার সময় যে টুপি, এই টুপি এই টাঙ্গাইলে তৈরি হয় এবং এই টুপি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যায়। আমরা যদি উদ্যোগ গ্রহণ করি, এই টুপি তে যারা কাজ করে আরো বহু সংখ্যক মানুষ এখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারব। অর্থাৎ টাঙ্গাইলকে আমরা পরিকল্পিতভাবে, টাঙ্গাইলকে আমরা পর্যায়ক্রমে শিল্পের শহরে পরিণত করতে পারব।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হলে অবশ্যই আমাদেরকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং এই পরিশ্রম করতে হবে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে। তাহলেই একমাত্র আমরা মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারবো।তিনি বলেন, এর আগেও যতবার বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিল ততবারই কোন না কোনভাবে বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হয়েছে। আপনাদের এলাকার হাসপাতালগুলোতে কাজ শুরু হয়েছিল। আপনাদের স্কুল কলেজগুলোকে মেরামত করা হয়েছিল, নতুন স্কুল কলেজ তৈরি হয়েছিল। গ্রামেগঞ্জে রাস্তাঘাটও তৈরি করা হয়েছিল। কাজেই আমাদের যদি সেই রাজনীতির ধারা আবার চালু করতে হয়, একই সাথে যদি নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে এলাকা এবং এলাকার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হয় তাহলে আমরা যেরকম আমাদের পরিকল্পনার কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি, আপনাদেরকেও তাহলে একই রকমের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
টাঙ্গাইল শহর বাইপাস সড়কের দরুন চরজানা এলাকায় আয়োজিত এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুস সালাম পিন্টু, ভাইস চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল-৮ আসনের প্রার্থী আহমেদ আযম খান, টাঙ্গাইল-৫ আসনের প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, টাঙ্গাইল-৭ আসনের প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল-১ আসনের প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, টাঙ্গাইল-৩ আসনের প্রার্থী এসএম ওবায়দুল হক নাসির, টাঙ্গাইল-৪ আসনের প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিন ও টাঙ্গাইল-৬ আসনের প্রার্থী রবিউল আওয়াল লাভলু। সভা পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু।
দুপুরের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জনসভাস্থলে আসতে শুরু করে। বিকেলের মধ্যে সভাস্থল পরিপূর্ণ হয়ে যায়।সন্ধ্যায় তারেক রহমান সভাস্থলে পৌঁছলে নেতা-কর্মীরা শ্লোগানে-শ্লোগানে তাকে বরণ করে নেয়। এসময় তার সাথে তার স্ত্রী জোবায়দা রহমানও ছিলেন।