প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 9, 2026 ইং
নানা প্রতিশ্রুতিতে ভোট প্রার্থনা বাসাইল-সখীপুরে আযম খানের ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার

বিশেষ প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে এবার বেশ শক্তিশালী হয়ে নির্বাচনী মাঠে লড়ছেন ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। নির্বাচনী মাঠে নামার পর থেকেই সাধারণ ভোটারদের কাছে টানতে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠে না থাকায় তার জন্য জয়ের পথটা কিছুটা সহজ হয়েছে বলে ধারণা অনেকের। ইতোমধ্যেই ধানের শীষের এই প্রার্থী নির্বাচনী মাঠ অনেকটাই গুছিয়ে ফেলেছেন। গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় আহমেদ আযম খান এবার সাধারণ ভোটারদের খুব সহজেই মন জয় করতে পেরেছেন। এজন্য বাসাইল ও সখীপুর উপজেলায় আহমেদ আযম খানের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
বাসাইল ও সখীপুর উপজেলার বিভিন্নস্থানে উঠান বৈঠক ও পথসভায় গিয়ে আহমেদ আযম খান ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও বাসাইল-সখীপুর উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মন্দির ও রাস্তা-ঘাট উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ ভোটারদের মন জয় করেছেন। প্রায় প্রত্যেকটি পথসভাতেই আহমেদ আযম খান দলমত নির্বিশেষে এবার ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পদে নের্তৃত্ব দিয়েছেন তিনি। বিএনপির এই ত্যাগী নেতাকে সাধারণ ভোটারটা এবার মূল্যায়ন করবেন বলে ধারণা সচেতন মহলের।
জানা গেছে, এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান (ধানের শীষ), ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থী জেলা জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও বাসাইল উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাওলানা শফিকুল ইসলাম খান (দাঁড়িপাল্লা), লাবীব গ্রুপের চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী ‘দানবীর’ খ্যাত শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল (হরিণ), জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার নাজমুল হাসান (লাঙ্গল), বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির প্রার্থী আওয়াল মাহমুদ (কোদাল) ও আলমগীর হোসেন (প্রজাপতি) প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে আহমেদ আযম খান, সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল ও অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খানের সঙ্গে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা জানান, ‘বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। বাসাইল ও সখীপুর উপজেলায় বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী ও সমর্থক রয়েছে। বিএনপির প্রার্থী আহমেদ আযম খান গত ৩টি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি একজন ত্যাগী নেতা। প্রায় ৩৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি গত ৩টি নির্বাচনে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এবার বাসাইল ও সখীপুর উপজেলার সাধারণ ভোটারটা একটিবারের জন্য আহমেদ আযম খানকে এমপি হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন। যেহেতু আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠে নেই। এজন্য ধানের শীষের প্রার্থী আহমেদ আযম খানের ভোটের পাল্টা ভারি রয়েছে।’
আহমেদ আযম খান বলেন, ‘আমি প্রায় ৩৫ বছর ধরে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। এখনও আছি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের সঙ্গেই থাকবো। আমি গত ৩টি নির্বাচনে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এখন আমারও অনেক বয়স হয়েছে। আশা করছি বাসাইল ও সখীপুর উপজেলার সাধারণ ভোটাররা আমাকে এবার বঞ্চিত করবেন না। বাসাইল ও সখীপুর উপজেলার সাধারণ ভোটারদের কাছে আমার অনুরোধ আমাকে আপনাদের মূল্যাবান ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।’ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা ও তাদের গ্রেফতারের বিষয়ে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন।
প্রসঙ্গত, সখীপুর উপজেলায় দুই লাখ ৫৭ হাজার ৪৩৩ ভোটার ও বাসাইল উপজেলায় এক লাখ ৫৭ হাজার ৩৯৭ ভোটার রয়েছে। এরমধ্যে বাসাইল উপজেলার চেয়ে সখীপুর উপজেলায় এক লাখ ৩৬ ভোট বেশি রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com