প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 17, 2026 ইং
২৫ বছরে পূরণ হলো স্বপন ফকিরের স্বপ্ন বিএনপি পেল ৪৫ বছর পর এমপি

টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ি)) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্য্য নির্বাহী কমিটির সদস্য তিনি। টানা ২৫ বছর চেষ্টার পর তিনি এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হলেন। এরমধ্যে দিয়ে ৪৫ বছর পরে বিএনপির আসন পুনরুদ্ধার হলো। দীর্ঘ এইসময়ে তিনবার স্বপন ফকির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। ব্যাংকিং জটিলতার কারণে ২০১৮ সালে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছিলেন তিনি। এর আগে টাঙ্গাইল-২ গোপালপুর-ভুঞাপুর আসনে তিনি বিএনপির দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে দীর্ঘ ৪৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কোন নির্বাচনে জয়ের মুখ দেখেছে বিএনপি। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী বিএনপির প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৩৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী পেয়েছেন ৯৪ হাজার ৪৬২ ভোট। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য ৪ প্রার্থী জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ হারুন অর রশিদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আসাদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলী জামানত হারিয়েছেন। স্হানীয় ও দলীয় সূত্র জানায়, ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন জাসদ মনোনীত প্রার্থী মোঃ আব্দুস সাত্তার। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে ধনবাড়ীর নবাব পরিবারের সন্তান হাসান আলী চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। হাসান আলী চৌধুরীর মৃত্যুর পর ১৯৮১ সালে উপনির্বাচনে তাঁর মেয়ে আশিকা আকবর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আশিকা আকবর পরাজিত হন। বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর পুত্র আবুল হাসান চৌধুরী। তারপর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারীর একতরফা নির্বাচনে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব আব্দুস সালাম তালুকদার নির্বাচিত হন। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বা বড় কোন রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি। ওই বছর ১২ জুন অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে নির্বচনে আবার অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাসান চৌধুরীর কাছে হেরে যান বিএনপির মহাসচিব আব্দুস সালাম তালুকদার । তারপর সবকটি সংসদ নির্বাচনে এই আসনে পরাজিত হন বিএনপির প্রার্থীরা। ২০০১, ২০০৮ সালে স্বপন ফকির ২০১৮ সালে সরকার সহিদ ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকের কাছে হেরে যান। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর টাঙ্গাইল ১ আসন থেকে বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীরা আনন্দে উদ্বেলিত। মধুপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন সরকার বলেন, মধুপুর ধানবাড়িবাসি মিলে টাঙ্গাইল-১ আসন বিএনপিকে উপহার দেওয়ায় আমরা আনন্দিত কৃতজ্ঞ। দীর্ঘদিন পর আমাদের এই বিজয় অর্জন সম্ভব হয়েছে। মধুপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রতন হায়দার বলেন, সুস্থ ধারার রাজনৈতিক স্বপন ফকির নিবেদিত প্রাণ মানুষ হিসেবে মধুপুর-ধনবাড়ির কল্যাণ করছেন ২৫ বছর ধরে। আজ তার মুখে হাসি ফুটেছে। আমরাও আনন্দে উদ্বেলিত। ফকির মাহবুব আনাম বলেন, আমি মধুপুর ধনবাড়িবাসীর কাছে ঋণী। তারা আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন। আমি নির্বাচিত না হয়েও ধনবাড়ীকে উপজেলায় উন্নীত করণসহ নানা উন্নয়ন কর্মকণ্ড বাস্তবায়নের সক্রিয় ছিলাম। আগামীতে মধুপুর ধানবাড়ি বাসিকে সাথে নিয়ে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসবাদ শালিশ মুক্ত মধুপুর ধনবাড়ি গড়তে চাই। সুযোগ পেলে মধুপুরকে জেলায় উন্নীত করনসহ নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করবো।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com