প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 8, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 7, 2026 ইং
মধুপুরে চাষ হচ্ছে ভিয়েতনামের ৯৯৯ জাতের সরিষা আবাদ

জাহিদুল কবির,মধুপুর থেকে
টাঙ্গাইলের মধুপুরে স্বল্প খরচে অধিক ফলনশীল ভিয়েতনামের নতুন জাতের সরিষা চাষ করে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। ভবানিটেকী গ্রামের শাহীন হোসেন বাড়ির পাশে ৪০ শতাংশ জমিতে ২০০ গ্রাম ‘ভিয়েতনাম-৯৯৯’ হাইব্রিড জাতের সরিষা বীজ বপন করে বাম্পার ফলন আশা করছেন।
উচ্চফলনশীল "ভিয়েতনাম-৯৯৯" জাতের সরিষা ভাল ফলন হওয়ায় কৃষকরা এ জাতের সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। প্রচলিত জাতের সরিষার ফলনের চেয়ে ৩ গুণ বেশি ফলন পাচ্ছে কৃষক। এটি স্বল্প খরচে (বিঘা প্রতি প্রায় ৭ হাজার টাকা) এবং দ্রুত সময়ে (প্রায় ৯০-১১০ দিন) ২৫-১৭ মণ পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এই হাইব্রিড জাতটি খরা ও লবণসহনশীল এবং প্রতি গাছে ৫০০-৬০০ গ্রাম ফলন দেয়, যা কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
মধুপুর পৌরসভার দামপাড়া গ্রামের কৃষক বুলবুল হোসেন জানান, তিনি ইউটিউব দেখে মাত্র ১০০ গ্রাম ‘ভিয়েতনাম-৯৯৯’ জাতের হাইব্রিড সরিষার বীজ চুয়াঙ্গা থেকে ১ হাজার টাকায় কেনেন। নিজের ১বিঘা জমিতে আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করে এই ১০০ গ্রাম বীজের মধ্যে ৩০ গ্রাম বীজ ৩ ফুট অন্তর লাইন দিয়ে বপন করেন। বর্তমানে তার জমিতে সরিষার যে ফলন দেখা যাচ্ছে, তা স্থানীয় সাধারণ জাতের তুলনায় অনেক বেশি ফুল-ফল ধরেছে।
স্থানীয় মাসুদ, বাবুল, হাবিবুর রহমান, আ: মালেকসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা বুলবুলের সরিষা ক্ষেত দেখতে ভিড় করছেন। কেউ ভিডিও করছেন। কেউ ছবি তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। তারা জানান, এই জাতের সরিষার কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ার মতো। আমাদের দেশের মধ্যে সাধারণ সরিষার চেয়ে এই জাতের সরিষাগাছ অনেক বেশি শক্তিশালী ও শাখা-প্রশাখাযুক্ত। প্রতিটি ছড়ায় দানার সংখ্যা অনেক বেশি এবং দানাগুলো আকারে বেশ বড় ও পুষ্ট।
কুড়াগাছা গ্রামের আ: সাত্তার বলেন, প্রথমে পরীক্ষামূলক চাষ করলেও ফলন দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। স্থানীয় অনেক কৃষকই আগামীতে এ জাতের সরিষা চাষ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছে। দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে এবং স্বল্প ব্যয়ে স্বল্প সময়ে লাভজনক চাষ হিসেবে এই জাতের উচ্চ ফলনশীল সরিষা দেশে একটি মাইলফলক হতে পারে। অল্প পরিমাণ বীজ ব্যবহার করেও পুরো জমি ঘন ও ফলনশীল হয়ে উঠেছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে ‘ভিয়েতনাম-৯৯৯’ জাতের হাইব্রিড সরিষা আশা জাগাচ্ছে।
উপসহকারী কৃষি অফিসার আব্দুর রহিম রাজু জানান, যদি সঠিক পরিচর্যা এবং উন্নত জাতের বীজের বিস্তার ঘটানো গেলে স্থানীয় পর্যায়ে সরিষার উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব হবে। গত বছরের তুলনায় এবছর এই নতুন জাতের হাইব্রিড সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা বলেন, আমাদের উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় পরীক্ষামূলক ভাবে ভিয়েতনাম ৯৯৯ নামে হাইব্রিড সরিষা চাষ শুরু করেছে কৃষকরা। প্রতি গাছে ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম পর্যন্ত সরিষার ফলন হয়। এই জাতটি উচ্চফলনশীল ফসল। কৃষকদের এই উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফলন ভালো হলে মধুপুরের বেশির ভাগ এলাকায় কৃষকদের মাঝে ভিয়েত নামে ৯৯৯ সরিষ আবাদ বৃদ্ধি পাবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com