
ইব্রাহীম ভূইয়া
যমুনা ব্রীজ হওয়ার পূর্বে ভূঞাপুর লঞ্চ ঘাট এক সময় পানিভরা এই যমুনা নদী ছিল উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ফেরি লঞ্চ দিয়ে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বড় বড় স্টিমার, লঞ্চ ও জাহাজে সরগরম থাকত এই লঞ্চ ঘাট। যমুনা নদীর বুকে থাকতো জাহাজ, ষ্টীমার, লঞ্চ নদীর কিনারা মেলে থাকতো বাণিজ্যে বেড় হওয়া মানুষের পালতোলা নৌকা। জেলেরা আনন্দে মাছধরা নৌকা বেয়ে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে জিবিকা নির্বাহ করতো।সময়ের পরিক্রমায় আজ যমুনা হারিয়ে ফেলেছে তার ভরা যৌবনের সৌন্দর্য। টাঙ্গাইলর ভূঞাপুর ফেরিঘাট হয়ে সিরাজগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে যমুনা নদী ছিল মানুষের একমাত্র পারাপারের ভরসাস্থল। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই প্রমত্তা যমুনা আজ হারিয়ে চলছে তার ভরাযৌবন। শুষ্ক মৌসুমে নদীটি এখন পরিণত হয়েছে প্রায় মরা খালে।যমুনানদীকে ঘিরে তৈরী হয়েছিল উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় স্লুইসগেট ও শাখা নদী ও খাল বিল। এই নদী শাসন ও খাল খননের নিয়মিত অধ্যায় নাথাকায় আজ তা মরিচিকায় পরিনত।এখন চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মনের আনন্দ উৎসাহ থেমে গেছে। ব্যবসায় নেমেছে ধস মালামাল বহনের নেই কোন বাহন।পানি নাথাকায় নৌকা চলাচল বন্দ হয়ে গেছে।রোগী নিয়ে পরতে হয় বিপাকে। বহনকারী যানবাহন নাথাকায় কারো কারো পথের মাঝে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হয়।
চরাঞ্চলের একাধিক স্থানীয় ব্যাক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরে নদী শাসন না হওয়ায় যমুনার গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে একদিকে চরাঞ্চলের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে,চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে অন্যদিকে নাব্যতা সংকটে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ৯০ দশকেও যমুনা ছিল পূর্ণ যৌবনা। সারা বছরই নদীতে পানি থাকত এবং নিয়মিত চলাচল করত ফেরি, লঞ্চ ও ইঞ্জিনচালিত নৌযানগুলো।আমরা ভোগ করতাম নানা সুখ সুবিদা। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে নদীর তলদেশ জুড়ে ধূ-ধূ বালুচর ছাড়া আর কিছুই দেখা পাওয়া যায় না। কোথাও কোথাও নদীর মাঝখানে চাষ হচ্ছে বাদাম, ভুট্টা, তিল,কালাই ও অন্যান্য ফসল। এক সময় যেখানে নৌকায় অল্প সময়ে যাতায়াত করা যেত, সেখানে এখন মাইলের পর মাইল হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে চরাঞ্চলের মানুষকে।
নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন জেলে ও মাঝিরা। এক সময় যমুনার ইলিশ, বোয়াল, আইড়, চিংড়ি, পাবদা গোলসা ও খোসলা মাছ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত ছিল। বর্তমানে পানি দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে মাছের সংকট। আগের মতো আর এসব মাছ পাওয়া যায় না। ফলে অনেক জেলে বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করেছেন।স্থানীয় বাসিন্দারা আরো জানান, নদী শাসনের মাধ্যমে দ্রুত নাব্যতা ফিরিয়ে না আনলে যমুনা পুরোপুরি মৃত নদীতে পরিণত হবে। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন।ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুব হাসান বলেন, “যমুনা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত নদী শাসনের মাধ্যমে যমুনার হারানো যৌবন ফিরে আসবে। আবারও জেলে ও মাঝিদের নৌকায় মুখরিত হয়ে উঠবে নদীপথ, ফিরবে জীবিকা ও যোগাযোগের স্বাভাবিক গতি।