প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 25, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 25, 2026 ইং
ঈদের আনন্দে যমুনা সেতু পূর্বপাড়ে বিনোদন প্রেমীদের ঢল!

কামাল হোসেন
যান্ত্রিক জীবনে কর্মব্যস্ততার ফাঁকে পরিবার-পরিজন ও প্রিয় মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দে মেতেছে বিনোদন প্রেমীরা। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের অন্যতম যমুনা সেতু পূর্ব পাড়ে নদী তীরবর্তী গরিলাবাড়ী এলাকায় পাথরঘাটে গড়ে উঠেছে বিনোদন কেন্দ্র। এছাড়া যমুনা নদীর ওপর নির্মিত যমুনা সেতু ও যমুনা রেল সেতু দেখতে ছুটে আসছেন টাঙ্গাইলসহ দেশের নানা প্রান্তের হাজারো মানুষ। সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত দেখা মেলায় প্রকৃতির পরিবেশ হয়ে ওঠেছে আরও মনোরম।
শুধু তাই নয়, যমুনা সেতু ছাড়াও রয়েছে আনন্দ পার্ক, যমুনা সেতু রিসোর্ট, যমুনা সেতু জাদুঘর, শিশু পার্ক, যমুনা সেনানিবাস কপি হাউজ ও বিপণী-বিতান মার্কেট, সুইমিংপুল, হরিণ দেখার দৃশ্য, যমুনা সেতু পূর্ব গোল চত্বর ও আশপাশে রয়েছে নানা ওষুধি গাছের বাগান। দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে নৌকা বা ছোট ট্রলারযোগে যমুনা নদী পথে যমুনা সেতু ও যমুনা রেল সেতু দেখার ব্যবস্থা। পাথরঘাটে অসংখ্য নৌকা ও ট্রলার সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রেখেছেন মাঝিরা। এখানে খেলনা দোকান ছাড়াও ফুসকাসহ ফাস্ট ফুড জাতীয় নানা রকম দোকানপাট গড়ে উঠেছে।
ঈদের দিন দুপুরের পর থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবার-পরিজন নিয়ে সূর্যাস্ত দেখছেন। আবার কেউ তাদের পছন্দের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এখানে নৌকা বা ট্রলার দিয়ে ঘুরতে জনপ্রতি ৫০ টাকা দিয়ে যমুনা সেতু ও যমুনা রেল সেতু দেখছেন খুব কাছ থেকে। এছাড়াও কেউ আবার মোটরসাইকেল যোগে যমুনা থেকে উপরে ঘুরছেন ও রেল সেতু দেখছেন। অনেকেই শিশুদের জন্য বিভিন্ন খেলনা কিনছেন। সব মিলিয়ে বিকালে এই সেতু পূর্ব এলাকায় মানুষের উপচে পড়া ঢল নেমে যায়।
গাজীপুর থেকে আসা স্কুল গার্মেন্টস কর্মী সেলিম মিয়া বলেন, এরআগে কখনো যমুনা সেতু দেখতে পরিবার নিয়ে আসেননি। এবার লম্বা ছুটি পেয়ে ঈদ উপলক্ষে ঘুরতে এসেছেন। পরিবারের লোকজন এই প্রথম যমুনা সেতু সরাসরি কাছ থেকে দেখতে পেল। এখানে এসে খুব ভাল লাগছে।
স্থানীয় সুমা খাতুন বলেন, যমুনা সেতু নির্মাণ হওয়ার পর থেকে এই সেতু দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন ছুটে আসে। বর্তমানে আরেকটি যুক্ত হয়েছে সেটি হলো সদ্য নির্মিত যমুনা রেল সেতু। টাঙ্গাইলে তেমন কোনো বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় যমুনা সেতু এলাকাকে বেছে নেন বিনোদন প্রেমীরা। সরকারিভাবে বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিলে এখানে দেশের বৃহত্তম বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এতে করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারবে সরকার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
যমুনা সেতু পূর্ব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফুয়াদ রোহানী জানান, আমাদের সদস্যরা আগের থেকেই ওই এলাকায় রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় আমাদের পুলিশ টিমের সদস্যরা সার্বক্ষণিক তৎপর। তাছাড়া ঘুরতে আসা কোনো দর্শনার্থী বা পর্যটক এখন পর্যন্ত কোনো হয়রানিমূলক অভিযোগ করেননি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com