প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 6, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 31, 2026 ইং
সখীপুরে ঘর থেকে কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, সন্দেহের তীর ছেলের দিকে!

টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিজের ঘর থেকে কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় মুক্তা বেগম (৩৫) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার বিকেলে উপজেলার গজারিয়া পশ্চিম পাড়া এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি ওই এলাকার কাতার প্রবাসী আলহাজ মিয়ার স্ত্রী। বিকেলে টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এ কে এম মামুনুর রশীদ ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন পিপিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৬ বছর আগে সখীপুর উপজেলার গজারিয়া গ্রামের আলহাজ মিয়ার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বাসাইল উপজেলার স্থলবল্লা গ্রামের দানেছ আলীর মেয়ে মুক্তা বেগমের বিয়ে হয়। ইতিমধ্যে তাঁদের সংসারে দুটি সন্তান এসেছে। ছেলে মুরাদ হাসান (১৪) নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও মেয়ে ইয়ামণির বয়স তিন বছর। মাস ছয়েক আগে আলহাজ মিয়া কাতার চলে যান। কিন্তু গত চার মাস ধরে পারিবারিক কলহের কারণে আলহাজ মিয়া তাঁর স্ত্রীর কাছে ফোন দেন না। নিহতের ফুপু ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই একে-অপরকে পরকীয়ায় জড়িত বলে সন্দেহ করতেন।
কয়েকদিন আগে গৃহবধূ মুক্তা বেগম ফুপুর কাছে ছেলের কাছ থেকে হত্যার হুমকি পেয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন। আজ সোমবার সকাল থেকে বাড়ির কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এমন খবর পেয়ে গৃহবধু মুক্তার বাবার বাড়ির লোকজন সখীপুরে ছুটে আসেন। ঘরে ঢুকে কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় গৃহবধূ মুক্তার লাশ পাওয়া যায়। এদিকে সকাল থেকেই ছেলে মুরাদ হাসান ছোট বোন ইয়ামণিকে নিয়ে পলাতক। বিকেলে পার্শ্ববর্তী কালমেঘা এলাকার এক আত্মীয় বাড়ি থেকে ঈমামণিকে উদ্ধার করা হলেও ছেলে মুরাদকে এখনও পাওয়া যায়নি।
গৃহবধুর বাবা দানেছ আলী বলেন, আমার মেয়েকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে খুন করেছে। আমি এর বিচার চাই। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এ কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, ধারণা করা হচ্ছে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি রাতে ঘটেছে। ছেলে মুরাদ হাসান পোলাতক রয়েছে। আমরা তাঁর খোঁজ করছি। তাঁকে খোঁজে পেলেই ঘটনার রহস্য উদঘাটন সহজ হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com