প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 2, 2026 ইং
গৌরীপুরে ইটভাটা মালিকের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

ফাইজা ব্রিকস এফ ইসলাম এন্ড কোম্পানীর ইটভাটায় অগ্রিম ইট ক্রয়ের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবী করেন মো. বোরহান উদ্দিন শোয়েব। তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর প্রেস ক্লাবে সোমবার (৩০মার্চ/২৬) পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবী জানান। তিনি আরও বলেন, ওই অগ্রিম ইটক্রয়ের ক্রেতাদের তালিকায় আমার নাম রয়েছে, আমিও পাওনাদার। যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।
এ প্রেস ক্লাবে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও গৌরীপুর থানায় অভিযোগে ৭লাখ ইট অগ্রিম ক্রয়ের জন্য ৬০জনের নিকট থেকে ৪২লাখ টাকা গ্রহণের সাথে তাকে ও তার পরিবারকে জড়িয়ে যা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ৬০জনের ইট ক্রয়ের মেমো সংগ্রহ ও স্বাক্ষর যাছাই করলেই সব সত্য বেড়িয়ে আসবে। আমিও ইট কিনেছিলাম, রশিদ আছে, ইট পাইনি।
তিনি লিখিত বক্তব্যে আরও জানান, উপজেলার ২নং ইউনিয়নের পূর্ব শালীহর গ্রামে তিনি ২০১৩ সনে এস কে ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা দেন। পরবর্তীতে সেই ইটভাটা ময়মনসিংহ সদর উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের মৃত হাজী মকবুল হোসেনের পুত্র ফারুকুল ইসলাম রতনের ফাইজা ব্রিকস এফ ইসলাম এন্ড কোম্পানীর সাথে ৫বছর মেয়াদে ভাড়া দেয়া হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে চুক্তি অনুযায়ী ইটভাটার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ হন্তান্তর করেন। ভাড়াকালীন ওই সময়ের দায়-দেনার সাথে বর্তমান ইটভাটার মালিকগণ বা আমার সাথে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ওই কোম্পানী ৪২লাখ টাকা মূল্যের ৭লাখ ইট রেখে যাওয়ার বিষয়ে যে দাবী করা হচ্ছে তাও মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন গৌরীপুর ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোবারক হোসেন বাবুল, বর্তমান এস কে ব্রিকসের পক্ষে মো. আজিজুর রহমান খান, মো. মাহবুবুর রহমান মান্না, মো. হুমায়ুন কবীর, মো. খায়ের উ্িদন রতন, মো. শফিকুল ইসলাম ও মো. আনোয়ার হোসেন।
অপরদিকে রোববার শালীহর গ্রামে এম.জি.এম (বর্তমান ফাইজা ব্রিক্স) ইটভাটায় ৬০জন গ্রাহকের অগ্রিম ক্রয়কৃত ৪২লাখ টাকার ইট দেয়ার দাবিতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী ক্রেতারা। ইটক্রয়ের গ্রাহক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ফাইজা ব্রিকস্ এফ ইসলাম এন্ড কোম্পানীর ১৬৭নং মেমো মূল্যে ৫টা ৫০পয়সা দরে ২০১৮সনের ২৮ অক্টোবর ১১লাখ টাকা দিয়ে ২লাখ ইট ক্রয় করেন। ভাড়াটিয়ার নিকট থেকে এ ইট ক্রয় করার মাধ্যম ছিলো মূল মালিক বোরহান উদ্দিন শোয়েব। এরমধ্যে তিনি ৮১হাজার ইট নেন। শালীহর গ্রামের আব্দুস সাত্তার ২০২২সনের ২১মার্চ ৪৮হাজার টাকা জমা দেন। এরমধ্যে ১৯হাজার টাকা মূল্যে ২হাজার ইট নেন। অবশিষ্ট ২৯হাজার টাকার ইট এখন পর্যন্ত তিনি পাননি। পৌর শহরের বাড়িওয়ালাপাড়ার মধু সরকার জানায়, ৪৫হাজার ইট কিনেছিলেন। এরমধ্যে ১০হাজার ইট তিনি নেন। এরপরে ইট চাইতে গেলে তাকে জীবননাশের হুমকি দেয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি থানায় জিডি করেছেন।
এ প্রসঙ্গে ফাইজা ব্রিকস্ এফ ইসলাম এন্ড কোম্পানীর মালিক মো. ফারুকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। এ প্রতিনিধিকে তার শম্ভুগঞ্জস্থ অফিসে চায়ের আমন্ত্রণ জানান। অভিযোগ প্রসঙ্গে ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোবারক হোসেন বাবুল জানান, ইটভাটার বর্তমান যারা মালিক তাদের সাথে ইট ক্রয়ের গ্রাহকদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ওই ক্রেতারা তাদের নিকট কোনো অভিযোগ এখন পর্যন্ত করে নাই, তারা এ ঘটনা জানেও না।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com