প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 4, 2026 ইং
মাত্র ৩০০ টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডায় মাকে খুন, ছেলের স্বীকারোক্তি

সাইফুল ইসলাম সানি
মাত্র ৩০০ টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডায় নিজের ছেলের হাতেই খুন হয়েছেন গৃহবধূ মুক্তা বেগম (৩৫)। টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গজারিয়া গ্রামে ঘটেছে এ ঘটনা। গত বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার হওয়ার পর কিশোর মুরাদ হাসান (১৫) পুলিশকে এ তথ্য জানিয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে সখীপুর থানা পুলিশ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী রেকর্ডের জন্য মুরাদকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠিয়েছে। কিশোর মুরাদ উপজেলার গজারিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় কাতার প্রবাসী আলহাজ মিয়ার ছেলে।
সখীপুর থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুরাদ একাই তার মাকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে। সে রাজমিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে কাজ করে ১ হাজার ৫০০ টাকা আয় করেছিল। সেখান থেকে ৩০০ টাকা নিজের কাছে রেখে ১২০০ টাকা মায়ের কাছে দিয়েছিল। কিন্তু তার মা মুক্তা বেগম সব টাকাই হাতে দিতে বলেছিল। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মা তার ছেলে মুরাদকে কোনোকিছু দিয়ে বাড়ি মেরেছিলেন। এ ক্ষোভ থেকেই রাতে মুরাদ তার মাকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করেছিল। ইটের ওই এক আঘাতেই মুক্তা বেগম মারা যায়।
তবে মুরাদকে আদালতে পাঠানোর সময় সখীপুর থানার মূল ফটকের সামনে নিহত গৃহবধূ মুক্তার স্বজনেরা বিক্ষোভ করেন। তারা মুরাদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে গৃহবধূ মুক্তার চাচী জোহরা খাতুন বলেন, মুরাদের পক্ষে এককভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো সম্ভব না। এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। আমরা হত্যাকারী মুরাদসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসি চাই।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন পিপিএম প্রগতির আলোকে বলেন, মুরাদ নিজেই তার মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত নয় বলেও জানিয়েছে। শুক্রবার তার জবানবন্দী রেকর্ডের জন্য টাঙ্গাইল পাঠানো হয়েছে। সেখানে এসব বিষয়ে স্বীকার করে নিলে তাকে কারাগারে পাঠানো হবে। আর তার কথাবার্তায় সন্দেহজনক কিছু মনে হলে অথবা দোষ অস্বীকার করলে রিমান্ডে আসতে পারে। এ বিষয়ে বিজ্ঞ আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে উপজেলার গজারিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় নিজ ঘরে কাতার প্রবাসী আলহাজ মিয়ার স্ত্রী মুক্তা বেগমের (৩৫) কম্বলে মোড়ানো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে সকাল থেকেই গৃহবধূ মুক্তার ছেলে মুরাদ হাসান পলাতক ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা সন্দেহ করেন, ছেলে মুরাদ হাসান মাদকাসক্ত, সম্ভবত ওই মুরাদই তার মাকে টাকার জন্যে খুন করে পালিয়ে গেছে। পরে গৃহবধূ মুক্তা বেগমের বাবা দানেছ আলী বাদী হয়ে নাতি মুরাদের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে সখীপুর থানায় মামলা করেন।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই মুরাদের বাবা কাতার প্রবাসী আলহাজ মিয়া তাঁর ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিলেন। একপর্যায়ে মুরাদের মোবাইল ফোন খুললে ছেলেকে পুলিশের হাতে ধরা দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের অবস্থান জানায় মুরাদ। পরে পুলিশ ভালুকা উপজেলার সীডস্টোর এলাকা থেকে মুরাদকে গ্রেপ্তার করে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com