
ময়মনসিংহ ব্যুরো :
গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে মেধাবি শিক্ষকদের শিক্ষকতা পেশায় ধরে রাখার জন্য আলাদা পে-স্কেল গঠন করা উচিত বলে মন্ত্রব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এমপি।
সোমবার (০৬ এপ্রিল) দুপুরে ময়মনসিংহের অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় একজন শিক্ষক মেধাবিদের শিক্ষকতা পেশায় ধরে রাখতে শিক্ষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ব্যাপারে জানতে চান।
উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "এই জায়গাটিতে আমার মন্তব্য হলো আমরা ফিন্যান্সিয়ালি তাদেরকে আরও যে সাপোর্টটা দেব, এই সাপোর্টটা অন্যান্য স্কেলের সাথে তুলনামূলক দিলে চলবে না। এই তুলনা দিলেই কেবল তুলনা চলতে থাকে, মামলা হতে থাকে, আন্দোলন হতে থাকে।
"আমি মনে করি শিক্ষকদের জন্য আলাদা একটা পে-স্কেল গঠন করা উচিত। হোয়দার হাই অর লো ডাজ নট ম্যাটার, ইটস কমপ্লিটলি ডিফারেন্ট।"
ডিজিটাল জালিয়াতি বন্ধে আইন হালনাগাদ হচ্ছে
পাবলিক পরীক্ষায় সব ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার ঠেকাতে ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন হালনাগাদ করে কঠোর করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, "একটি আইন ছিল ১৯৮০পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট। ওই আইন দিয়ে আমি ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত নকল প্রতিরোধ করেছিলাম। ক্লিয়ার? এখন মানুষকে স্মার্ট হয়ে গেছে। এখন ডিজিটাল অনলাইন শুরু হয়ে গেছে। ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন এই আইনটা করেছিলেন তখন কি ডিজিটাল অনলাইন ছিল?
"তাহলে ডিজিটাল এটাতে ইনক্লুড করতে হবে। তখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চিন্তা করে নাই যে পলিটিশিয়ানরা আর শিক্ষকরা মিলে এই শিক্ষাব্যবস্থাকে এই অবস্থা করবে। সেইজন্য ওই ধরনের আইন ছিল না। এখন আমি এসেই এই আইন পরিবর্তনের জন্য অলরেডি আমি ক্যাবিনেটে উঠিয়েছি। আইনের ড্রাফটের মধ্যে কিছু দুর্বলতা ছিল বলে এটাকে আবার আইন মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়েছে। এখানে ডিজিটাল অ্যাক্ট ইনক্লুড করা হয়েছে।"
ডিজিটাল এডুকেশনে অভ্যস্ত করতে হবে
শিশুদের ডিজিটাল এডুকেশনে অভ্যস্ত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, "ডিজিটাল এডুকেশনে আমাদেরকে এডমিয়েন্টেড করতে হবে। তাদেরকে অভ্যস্ত বানাতে হবে। এর কোন বিকল্প নাই। কারণ এডুকেশন যে গ্লোবাল কমিউনিটি।"
একদিন অনলাইন একদিন অফলাইন ক্লাসের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, "একদিন অনলাইনে শিখলো, আরেকদিন অফলাইন আপনাকে স্কুলে আসতে হল। করোনার সময় আমরা দেখেছি বাচ্চারা আনসফল হয়ে গিয়েছে। আমরা সেটাও করছি না। আসো স্কুলে একদিন, আরেকদিন তুমি বাসায় থাকো। এইভাবে তাদের আমরা সেটা করছি।"
পাবলিক পরীক্ষার সংজ্ঞা বদলে যাচ্ছে
নতুন আইনে পাবলিক পরীক্ষার সংজ্ঞা বদলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন,"
এবার আমি পাবলিক পরীক্ষার ডেফিনেশন পাল্টিয়েছি। এনি এক্সামিনেশন কন্ডাক্টেড বাই এনি গভর্নমেন্ট অথরিটি, এনি পাবলিক অথরিটি, এনি সিভিল অথরিটি অল আর পাবলিক এক্সামিনেশন।
"তার মানে নকল শুধু আমার স্কুলে হবে, কলেজে হবে তা না কোথাও হতে পারবে না। বুঝতে পেরেছেন তো?"
খাতা দেখায় অনিয়মে পরীক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সারাদেশে নকলমুক্ত ও স্বচ্ছ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে খাতা মূল্যায়নেও কঠোরভাবে নিয়ম অনুসরণের শিক্ষকদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, "কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "পরীক্ষায় নকল বন্ধ করা যেমন জরুরি, তেমনি খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত নিয়ম না মানলে তা শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে পরীক্ষকদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। কোনো ধরনের গাফিলতি বা পক্ষপাতিত্ব সহ্য করা হবে না।
"শিক্ষার্থীরা যেন নিজ যোগ্যতায় উত্তীর্ণ হতে পারে, সে পরিবেশ তৈরি করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।"
পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা বজায় রাখা এবং প্রতিটি ধাপে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, "আগে খাতা মূল্যায়নের সময় ভিন্ন রঙের কলম ব্যবহার করে অনৈতিকভাবে নম্বর বাড়ানোর প্রবণতা ছিল, যা শিক্ষার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ ধরনের অনিয়ম আর চলবে না।"সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, "এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।"
শিক্ষকরাই নকল বন্ধ করেছিলেন । ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকরাই নকল বন্ধ করেছিলেন উল্লেখ করে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, "তাহলে প্রমাণ হল যে আবার ২০০৬ সালের পরে আস্তে আস্তে আস্তে আস্তে আপনারা নকলে সহজ শুরু করে দিছেন। কেন? বিকজ গভমেন্ট যা চায় আপনারা তা করেছেন। এটা হল ইন্টেনশন অব গভমেন্ট।"
ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-৪ এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ ২ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল্লাহ, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান রোকন, ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের রাষ্ট্রপতি মনোনীত বোর্ড সদস্য শফিকুল ইসলাম, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মিয়া নুরুল হক, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান, ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কামরুল হাসান, ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান, ময়মনসিংহ জিলা স্কুল প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালামসহ প্রমূখ।
ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ড এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ড- এর কেন্দ্রসচিবদের সাথে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর মতবিনিময় সভায় শিক্ষক ও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর বিকেলে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের হলরুমে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে প্রেস ব্রিফিং করেন।