প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 23, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 23, 2026 ইং
মধুপুরে ভুল পরিচয়ে দাফনের ২০ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো মরদেহ

ভুল পরিচয়ে দাফনের দীর্ঘ ২০ মাস পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে উত্তোলন করা হলো মেজবাহুল ইসলাম (৩০) নামের এক যুবকের মরদেহ। গতকাল বুধবার টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভা এলাকার নয়াপাড়া গ্রাম থেকে মরদেহটি উত্তোলন করে তার প্রকৃত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মৃত মেজবাহুল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ হাতিবান্ধা গ্রামের মো. হাফিজুর রহমানের ছেলে।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন বাড়ইপাড়া এলাকায় নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পাশ থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে মধুপুরের নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা হযরত আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি তার নিখোঁজ ছেলে হৃদয় হোসেনের বলে শনাক্ত করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি মরদেহটি মধুপুরে নিয়ে আসেন এবং পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করেন।
মরদেহ দাফনের মাত্র সাত দিন পর ৭ আগস্ট সবাইকে অবাক করে দিয়ে জীবিত অবস্থায় বাড়িতে ফিরে আসেন হৃদয় হোসেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং দাফন করা মরদেহটির প্রকৃত পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। হৃদয় জীবিত ফেরায় দাফন করা ব্যক্তিটি আসলে কে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পুলিশের কাছে থাকা মরদেহের ছবি দেখে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হাফিজুর রহমান দাবি করেন, দাফন করা ওই ব্যক্তি তার নিখোঁজ ছেলে মেজবাহুল ইসলাম। এরপর মরদেহের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং তা নিজ গ্রামে নিয়ে দাফনের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয় মেজবাহুলের পরিবার। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেন।
এই হত্যাকা-ের ঘটনায় ২০২৪ সালের ১ আগস্ট আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-০৪) দায়ের করা হয়েছিল। পিবিআই ইন্সপেক্টর শফিউল আলম জানান, মরদেহের পরিচয় এখন সুনিশ্চিত। এই হত্যাকা-ের রহস্য উদ্ঘাটন এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে তদন্তকাজ আরও জোরদার করা হয়েছে।আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল টাঙ্গাইলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মধুপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দীনের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এ সময় টাঙ্গাইল পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর মো. শফিউল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ২০ মাস আগে দাফন করা মেজবাহুলের অবশিষ্টাংশ পরে তার বাবা হাফিজুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com