প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 30, 2026 ইং
কৃষকের সোনালী হাসি ফিকে হয়ে গেছে টাঙ্গাইলে

ঘরের ধানের ভাত খাই। বাপ-দাদার এই ঐতিহ্য ধইরা রাখবার নিগা মাত্র আড়াই পাকি জমিতে ধান লাগাইছি। উচ্চমূল্যে বীজ, সার, সেচ দিয়ে ধান আবাদ করছি। ধান কাইটা ঘরে তোলবার যাইয়া কান্দন আইতাছে। একপাকি ধান কাটতে কামলা মজুরি নাগতাছে ৬হাজার টাকা। কথাগুলো বলছিলেন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি উপজেলার ছত্রপুর গ্রামের রমজান আলী। তার মতো আবু হানিফ, আব্দুল হামিদ, জব্বার আলীসহ এনেকেই ধান আবাদ করে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে এক লাখ ৭৬ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ ৪৭ হাজার ৮৫২ হেক্টর জমিতে উফশী, ২৭ হাজার ৮০৮ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ও ৪৯০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের ধান রয়েছে। চলতি মৌসুমে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাত লাখ ৯৬ হাজার ৪৭৯ মেট্রিক টন।লক্ষমাত্রা অর্জনে কৃষক ও কৃষি বিভাগের যৌথ প্রচেষ্টায় সফলতার দ্বারপ্রান্তে এসেছে। কিন্তু উৎপাদন ব্যায়ের নানামুখি চাপে কৃষকদের সোনালি হাসি কষ্টে রূপান্তরিত হয়েছে।
মধুপুরের নাগবাড়ী গ্রামের আবু হানিফ জানান, বিআর ২৮ ও ২৯ ধান আবাদ করছি। ২৮ পাইকা গেছে। ঘরে তোলার আগেই ঝড়বৃষ্টিতে ধান শুইয়া পড়ছে। একপাকি খেত কাটবার চুক্তি দিছিলাম সাড়ে তিন হাজার টাকা। সেই কামলারাই অহন ছয় হাজারের নিচে কাটবোনা। তারপরে আবার ধান মাড়াই খরচ একহাজার। এর আগে উচ্চমূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক দিছি। রোপা লাগাইছি। বেবাক মিলা বিঘায় চৌদ্দ হাজারের ওপরে খরচ। অহন বাজারে ধানের দাম একেবারেই নাই।
টাঙ্গাইলের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম ভূঞা বলেন, এবার সরকার ৩৬ টাকা কেজি দরে ধান ক্রয় করবে। এই দর অনুসারে প্রতি মন ধানের দাম হলো ১ হাজার ৪৪০ টাকা। কিন্তু বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধানের দাম সরকার নির্ধারিত মূল্যের আশে পাশেও নেই।
কুড়ালিয়ার টনকিআটা গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ জানান, এবার ধান বিক্রি কইরা কৃষক ফকির অবো। বাড়িত থিকা পাইকাররা ধান নিতাছে সাড়ে ৬শ টাকা মন। বাজারে বিক্রি অইতাছে ৭শ থিকা সাড়ে ৮শ। যারা ঋণ কইরা ধান আবাদ করছে তাগর মরণদসা। অনেকেই ধান আবাদ করতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। টনকিআটা গ্রামের জব্বার আলি দুই একর জমিতে ধান আবাদ করতে গিয়ে ৫৫ হাজার টাকা ঋণ করেছেন।
এব্যাপারে টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশেক পারভেজ বলেন, চলতি মৌসুমে বোরো আবাদের লক্ষ্য মাত্রা অর্জন হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে। তবে নানা কারণে তাদের একটু ব্যয় বেড়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com