
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং ক্রীড়াকে নিছক বিনোদনের গণ্ডি থেকে বের করে একটি সম্মানজনক পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে এই মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
শনিবার (২ মে) সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এই দেশব্যাপী ক্রীড়া উৎসবের শুভ সূচনা করেন।
সারা দেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলোতেও এ সময় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন খুদে ক্রীড়াবিদরা। উদ্বোধনকালে টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-১ আসনের সংসদ সদস্য ফকির মাহবুব আনাম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৮ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, টাঙ্গাইল-২ আসনে সংসদ সদস্য আবদুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৪ আসনে সংসদ সদস্য মো. লুৎফর রহমান, টাঙ্গাইল-৬ আসনে সংসদ সদস্য মো: রবিউল আউয়াল, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল-৭ আসনে সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী।
উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের শিশুরা কেবল আগামীর ভবিষ্যৎ নয়, তারা বর্তমানেরই প্রাণশক্তি। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কেবল একটি প্রতিযোগিতার নাম নয়, এটি একটি জাতীয় স্বপ্ন। আমরা চাই আমাদের কিশোর-কিশোরীরা খেলাধুলাকে তাদের কর্মজীবন হিসেবে বেছে নিক। সরকার এমন এক পরিবেশ তৈরি করছে যেখানে একজন খেলোয়াড় গর্বের সাথে বলতে পারবেন যে ক্রীড়াই তাঁর পেশা এবং জীবিকার প্রধান উৎস।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তাদের দীর্ঘমেয়াদী উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এতে করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারবে।
সিলেট জেলা স্টেডিয়াম এক উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছিল। বর্ণিল বেলুন, ফেস্টুন আর হাজারো শিশুর পদচারণায় মুখরিত ছিল পুরো এলাকা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা খুদে অ্যাথলেটরা বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজে অংশ নেয় এবং প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাদের সালাম গ্রহণ করেন।
এ সময় নতুন কুঁড়ির থিম সং-এর সাথে কয়েক শ’ শিশু এক মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে প্রদর্শন করে, যা উপস্থিত দর্শকদের বিমোহিত করে। অনুষ্ঠানে আধুনিক ক্রীড়া প্রযুক্তির একটি প্রদর্শনীও করা হয়, যা ভবিষ্যতে খেলোয়াড়দের মানোন্নয়নে ব্যবহৃত হবে।
বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, খেলাধুলাকে একটি আধুনিক শিল্প ও লাভজনক পেশা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায় থেকে মেধা অন্বেষণ করা হবে। বাছাইকৃত সেরা খেলোয়াড়দের জন্য মাসিক বৃত্তি এবং উন্নত পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ক্রীড়া একাডেমি স্থাপন করা হবে। জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড়দের জন্য সরকারি চাকরিতে বিশেষ কোটা এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করবে সরকার।
সিলেটে উদ্বোধনের পাশাপাশি একযোগে দেশের ৬৪টি জেলাতেই এই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসকদের তত্তাবধানে স্থানীয় স্টেডিয়ামগুলোতেও প্রাথমিক পর্যায়ের বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকার আশা করছে, এই আয়োজনের মাধ্যমে ফুটবল, ক্রিকেট, অ্যাথলেটিকস, সাঁতার এবং দাবাসহ বিভিন্ন ইভেন্টে অন্তত দশ লক্ষ শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শেষে বলেন, সিলেটের এই পুণ্যভূমি থেকে যে মশাল আজ জ্বলে উঠল, তা সারা বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে। আমাদের সন্তানরা মাঠ কাঁপাবে, বিশ্বের বুকে পতাকাকে উড্ডীন করবে, এই আমার প্রত্যাশা। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসের একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
বক্তব্য শেষে পুরো মাঠ ঘুরে ক্ষুদে প্রতিযোগী ও স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সরকার প্রধান। এসময় আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয় সিলেট জেলা স্টেডিয়াম।শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণে ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল নতুন কুঁড়ির। বাংলাদেশ টেলিভিশনের আশির দশকের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনেক প্রতিভা উঠে এসে শিল্প অঙ্গনে। বহু বছর পর সেই পরিচিত নাম আবার ফিরে এসেছে, তবে এবার মঞ্চ নয়, সবুজ মাঠ-গালিচায়। যাত্রা শুরু হলো নতুন এক স্বপ্ন- ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’এর।
আগামী দিনের তারকাদের উৎসাহ জানাতে ঢাকা থেকে ছুটে এসেছেন বিভিন্ন বিভাগের দেশসেরা ৩২ জন খেলোয়াড়। একেকজন একেক খেলার প্রতিনিধি–কেউ খেলেন ক্রিকেট, কেউবা ফুটবল কিংবা কাবাডি। আজ সবাই এক প্ল্যাটফর্মে। আগামীর তারকা খুঁজে বের করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হয়ে এসেছেন তারা।
উদ্বোধনী ভেন্যু হিসেবে ঢাকার পরিবর্তে সিলেটকে বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা ছিল। এ প্রসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা থেকে আমরা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস শুরু করব কি না এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম। তিনি বললেন, এটা ঢাকায় রাইখো না। ঢাকার বাহিরে নিয়ে যাও। সবসময় ঢাকা থেকে শুরু করা হয়। আমি চাই এটা ঢাকার বাহিরে থেকে শুরু হোক।’ তারই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা সিলেট থেকে শুরু করছি।