প্রিন্ট এর তারিখঃ May 11, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 11, 2026 ইং
সন্তোষ জাহ্নবী উচ্চ বিদ্যালয় ও ঐতিহাসিক কামিনী গাছ

মিয়াচান, প্রধান শিক্ষক :
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের এক কোণে আজও নীরবে দাঁড়িয়ে আছে একটি ঐতিহাসিক কামিনী ফুলের গাছ। সময়ের অসংখ্য পরিবর্তন, ঝড়ঝঞ্ঝা ও প্রজন্মের পালাবদলের সাক্ষী হয়ে গাছটি যেন অতীতের এক জীবন্ত স্মারক হয়ে রয়েছে। এর স্নিগ্ধ ছায়া ও মুগ্ধকর সুবাসে বহু শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বিদ্যালয়ে আগত কর্মকর্তাবৃন্দ এবং অসংখ্য সুধীজন বছরের পর বছর মুগ্ধ হয়েছেন।
বর্তমানে গাছটির বয়স আনুমানিক প্রায় ১৫৬ বছর। সময়ের দীর্ঘ পরিক্রমায় এটি আজ বার্ধক্যে উপনীত হয়েছে। গাছটির যৌবনকালের পূর্ণ সৌন্দর্যের বর্ণনা আমি নিজে দিতে পারবো না। তবে বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক শ্রদ্ধেয় বাবু ক্ষিতিশ চন্দ্র বসাক মহোদয়ের মুখে এই গাছের অতীতের যে গল্প শুনেছি, তা সত্যিই এক অনন্য ইতিহাস। তাঁর বর্ণনায় ভেসে ওঠে এক সময়ের সজীব, সুগন্ধময় ও মনোমুগ্ধকর সেই গাছের ছবি, যার সৌন্দর্যে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ছিল আরও প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়।
আমি নিজেও এই গাছটির দীর্ঘ দিনের নীরব উপস্থিতির একজন সাক্ষী। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে ১৯৯০ সালে যখন সন্তোষ জাহ্নবী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হই, তখনই প্রথম এই গাছটি আমার চোখে পড়ে। সেই সময় যেভাবে গাছটিকে দেখেছিলাম, আজও যেন অনেকটাই একই রকম মনে হয়। সময় বদলেছে, বিদ্যালয়ের অনেক কিছু পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু গাছটি যেন একইভাবে দাঁড়িয়ে থেকে অতীত ও বর্তমানের মধ্যে এক অদৃশ্য সেতুবন্ধন রচনা করে চলেছে।
আজ গাছটির আগের সেই জৌলুস আর নেই। দূর থেকে দেখলে অনেক সময় শুকনো কিংবা মৃত ডালের মতো মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে গাছটি এখনো জীবন্ত। বয়সের ভারে ক্লান্ত হলেও তার প্রাণশক্তি নিঃশেষ হয়নি। এখনও সে ফুল ফোটায়, এখনও তার মৃদু সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে দেয়। যেন নীরবে জানিয়ে দেয়—ইতিহাস কখনো মরে না; তা বেঁচে থাকে স্মৃতিতে, অনুভূতিতে এবং মানুষের ভালোবাসায়।
এই কামিনী গাছটি কেবল একটি বৃক্ষ নয়; এটি একটি ইতিহাস, একটি ঐতিহ্য, একটি আবেগ। বিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অসংখ্য মানুষের স্মৃতি, অনুভূতি ও ভালোবাসার নীরব ধারক হয়ে এটি আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com