প্রিন্ট এর তারিখঃ May 16, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 16, 2026 ইং
মধুপুরে শিল্প ও বণিক সমিতির ভবন নির্মান ঘিরে উত্তেজনা ॥ সাধারণ সম্পাদককে হুমকি

টাঙ্গাইলের মধুপুরে শিল্প ও বণিক সমিতির ভবন নির্মান ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। জমির মালিকানা নিয়ে মধুপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র পরিবারের সাথে সৃষ্ট এই দ্বন্দ্ব ঘিরে বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে - অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে মধুপুর শিল্প ও বণিক - সমিতি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করেন। লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মিনজুর রহমান নানু জানান, মধুপুর মৌজার হালদাগ ৭২৭ খতিয়ানের ৩৫৫৬ দাগের প্রভাবশালী ব্যক্তির কৃদৃষ্টি পড়ে। তারা মধুপুর পৌরশহরের মধুপুর মৌজার বাসাবাড়ি মার্কেট এলাকায় আমাদের জমির জাল কাগজপত্র তৈরি করে দখলের পায়তারা চালায়। ইতোমধ্যেই তারা সরকার শহিদের বড় ভাই নুরুল ইসলাম রাজের স্ত্রীর খোদেজা রাজের নিকট থেকে জমি কিনে দখল বুঝে নেয়। এরমাঝে মধুপুর শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি সাবেক মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান বণিক সমিতির নামে ৮শতাংশ জমি ক্রয় করেন। সেই জায়গা বুঝে নেওয়ার সময় আমাদের জায়গাসহ তারা বেদখল দেওয়ার চেষ্টা করে। ১৪ মে বৃহস্পতিবার সকালে বাসাবাড়ি মার্কেটে আমাদের জমিতে প্রাচীর নির্মান করতে গেলে আমি বাধা দেই। এসময় মিনজুর রহমান নানু আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমি বাধা দেওয়ায় তারা তাদের নির্মান কাজ বন্ধ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
লিলি সরকার আরও অভিযোগ করেন, আমার স্বামীর বড় ভাই প্রয়াত নুরুল ইসলাম রাজ এর স্ত্রী খোদেজা রাজ ১২.৪০ শতাংশ জমির মালিক। খোদেজা রাজ বিভিন্ন সময়ে চার জনের নিকট ১৫.৭৪ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। এর মধ্যে মধুপুর শিল্প ও বণিক সমিতির ৮শতাংশ রয়েছে। এছাড়াও জায়গার ভোগকারিদের সুবিধার জন্য আমাদের নিজস্ব জায়গার মধ্য দিয়ে রাস্তা দেওয়া হয়েছে। ফারায়েজের হিসাবান্তে মধুপুর শিল্প ও বণিক সমিতি মাত্র ৪.৬৬ শতাংশ জমি প্রাপ্ত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কিন্তু বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিনজুর রহমান নানু রাস্তায় ব্যবহৃত জায়গা, ফারায়েজ অনুসারে আমাদের অংশ বুঝিয়ে না দিয়েই সে পুরো ৮শতাংশ দখলে নেওয়ার পায়তারা চালাচ্ছেন।
এই নিয়েই বিভিন্ন ধরনের হুমকী ধামকি দিয়ে আসছেন। এমনকি মিনজুর রহমান নানু আমাদের সিনথিয়া হোটেলসহ আমাদের বাড়ি বেদখল করারও হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন লিলি সরকার। এসময় সাংবাদকিদের প্রশ্নের জবাবে আহাদুল ইসলাম আদিত্য সরকার বলেন, আমি কাউকে হুমকি দেইনি। আমি ঢাকায় থেকে যখন শুনেছি আমার মার সাথে বণিক সমিতির সেক্রেটারি দুর্বব্যবহার কেন করলেন তাই জানতে বণিক সমিতির অফিসে গিয়েছিলাম। তাকে অফিসে না পেয়ে ফিরে এসেছি।
এব্যাপারে মিনজুর রহমান নানু বলেন আমরা জমি কেনার ভূমি অফিসের মাধ্যমে খারিজ করে আমাদের জায়গা ভোগ দখলে নিয়েছি। যখন আমরা নির্মান কাজ শুরু করেছি তখনই তিনি আমাদের কাজে বাধা দিচ্ছেন। খোদেজা রাজের নিকট থেকে কেনা জায়গা বেদখল দেওয়ার জন্য লিলি সরকার ও আদিত্য সরকার পায়াতরা করে যাচ্ছেন।
১৪ মে সকালে নানু আমার ছেলে আদিত্য সরকারের নিকট ১০লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ১০লাখ টাকা দিলে তিনি ৮শতাংশ থেকে ৩শতাংশ বাদ রেখে ভবন নির্মান করবে। আমার ছেলে টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তারা দলবল নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে আমাদের জমি দখল দিতে যায়। আমাদের এই জমির সকল কাগজপত্র আমাদের নামেই বিদ্যমান। ওই ষড়যন্ত্রকরিরা আওয়ামী শাসনামলে জাল কাগজ তৈরি করে জমি দখলের পায়তারা করে যাচ্ছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com