
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা পরিবর্তনের জন্য রক্ত দিয়েছি, একদলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে আরেক দলের লুটপাটের জন্য ছাত্র-জনতা রক্ত দেয় নাই। বিগত সময়ে এক দলের শাসন ছিল, কেউ কথা বলতে পারতো না। কথা বললেই গুম করা হত, হয়রানি করা হতো। আমরা দেখছি- বাংলাদেশকে আবারও সেই একদলীয় শাসনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংসদেও আমাদেরকে কথা বলতে দেওয়া হয় না, আমরা জনসভায় কথা বলতে গেলেও ককটেল ফোটানো হয়। এই একদলীয় শাসন যদি আবার শুরু করার কথা কেউ ভাবে, আওয়ামী লীগের পরিণতির কথা আপনারা ভাববেন। আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌর শহরের তালতলা চত্বরে জুলাই পদযাত্রার পর এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপির সখীপুর উপজেলা শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ৩২ টি দল মিলে দীর্ঘ ছয়-সাত মাস আলোচনা করে জুলাই সনদ তৈরি করা হয়েছিল, নির্বাচনে গণভোট হয়েছিল। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ হ্যাঁ ভোট দিয়েছিল। কিন্তু এই বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে পাল্টে গিয়ে সেই সংস্কার এবং জুলাই সনদকে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, গণভোটকে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিল- দেড় বছরে তারা এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করবে, কিন্তু চার মাস অতিবাহিত হয়েছে, কয়টি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে? যে বাজেট দিয়েছে, সেই বাজেটেও কর্মসংস্থান নিয়ে কোনো রূপরেখা নেই।
পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, বর্তমান সরকার জুলাই সনদ থেকে গুমের অধ্যাদেশ, মানবাধিকার অধ্যাদেশ, দুদকের অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো রহিত করেছে-বাতিল করেছে। তাঁরা বলছেন- আগামীতে এগুলো সংশোধন করে আনবে। আমাদের সন্দেহ হয়, সেগুলো বাতিল করে দিয়ে আবার ক্ষমতাকে নিজেদের মধ্যে কুক্ষিগত করতে চাচ্ছেন। এই লক্ষণ কিন্তু ভালো না। আমাদের দাবি- গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।
সারজিস আলম আরও বলেন, ভারতের আদানী কোম্পানিকে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বাংলাদেশ থেকে লুটপাট করতে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের লুটপাটের প্রকল্প বাদ দিয়ে জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন করে প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তথাকথিত মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে ঘোষণা দিচ্ছেন- বাংলাদেশের ১০ হাজার পুশ-ইন করা হয়ে গেছে, আরও করার পরিকল্পনা আছে। একটি দেশের মুখ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্য আমার দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। প্রকাশ্যে এভাবে হুমকি দিয়ে আমাদের এই সার্বভৌম দেশে ভারতের নাগরিক অনুপ্রবেশ করাতে পারে না। বর্তমান সরকার কে বলতে চাই- আমাদের প্রত্যেকটা সীমান্ত সুরক্ষা করে আমাদের নাগরিকদের জন্য ওই সীমান্তের আশেপাশে বাংলাদেশের এলাকাগুলোকে নিরাপদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
বিজিবিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
সারজিস বলেন, বিএনপি ক্ষমতাসীন দল, কিন্তু তারা আমাদের অভ্যুত্থানের সহযোদ্ধা, তাদের ভালোটাকে আমরা যেমন ভালো বলব, সমালোচনা করার কোনো কাজ করলে আমরা কিন্তু তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেব না। গতকাল (সোমবার) সাভারে আমাদের পথসভার মঞ্চের সামনে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। আমরা সরকারকে আহ্বান জানাই- যারা স্বৈরাচারের দোসর ছিল, যারা আপনাদের নেতাকর্মীদের উপর জুলুম করেছে, বছরের পর বছর আপোসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে রেখেছে, ওই সন্ত্রাসীদের যেনো কোনোভাবেই আপনাদের কেউ প্রশ্রয় না দিতে পারে। প্রশাসনের কেউ যদি তাদের সামনে-পেছনে থেকে সহযোগিতা করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধেও আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সখীপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক ফরিদ সিকদার জিয়া, সদস্য সচিব ও সখীপুর পৌর নির্বাচনের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আনছার আলী প্রমুখ বক্তব্য দেন। এ সময় জামায়াত ইসলামীর উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আল-আমিন, সেক্রেটারি মনিরুজ্জামানসহ এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।