প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং
নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের বাইরে আন্দোলনকারীরা দিল্লির পথে কৃষকরা।। তীব্র চাপে মোদি সরকার

নিট পরীক্ষা কেলেঙ্কারি ও শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমনপীড়নের ঘটনায় উত্তাল ভারতের জাতীয় রাজনীতি। সোমবারের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর মঙ্গলবার এই ঘটনার আঁচ পৌঁছে গেছে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবন পর্যন্ত। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন বিরোধী নেতারা। অন্যদিকে, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কঠোর বার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা 'হিউম্যান রাইটস ওয়াচ' (এইচআরডাব্লিউ))।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা। আহত শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরার প্রতিবাদে ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বসে পড়েন তাঁরা।
.
একই সময়ে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আন্দোলনে গ্রেফতার, আটক ও আহত শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর ঘোষণা করা হয়েছে। আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালও শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও আইনি সহায়তার জন্য একটি হেল্পলাইন চালু করেছেন।
.
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা হাসপাতালে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করলে তা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছে আন্দোলনকারী সংগঠন 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)। সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, "সরকার লোকদেখানো 'ফোটো-অপ' করছে। এতে ভুল ভাঙবে না। নাড্ডা হাসপাতালে ঘুরছেন ভালো কথা, কিন্তু সরকারের আসল কাজ শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে বরখাস্ত করা। আমরা সরকারের কাছ থেকে আমাদের দাবিপত্রের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জবাব এখনো পাইনি।"
সোমবার পুলিশের বর্বরোচিত লাঠিচার্জে চরম আহত হয়ে রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে থাকা তরুণী শিক্ষার্থী চেতনা ফিরে পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এটি আন্দোলনকারীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে। তবে সোশাল মিডিয়ায় আন্দোলনকারীদের শরীরে স্প্লিন্টার বা 'পেলেট ইমপ্যাক্ট'-এর মতো ক্ষতচিহ্ন দেখা গেলেও দিল্লি পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর কোনো প্রকার 'পেলেট গান' ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেছে।
ঘটনার ওপর চোখ রেখে নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ভারত সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে। সংস্থার এশিয়া অঞ্চলের ডেপুটি ডিরেক্টর মীনাক্ষী গাঙ্গুলী এক বিবৃতিতে জানান, পুলিশকে চরম সংযম বজায় রাখতে হবে, সেন্ট্রাল দিল্লিতে অবিলম্বে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।
পরিবেশকর্মী ও প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের অনশন আজ ২৩তম দিনে পা রেখেছে। তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমো বলেন, "ভারতের তরুণেরা গতকাল যেভাবে অহিংস প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল।"
বর্তমানে দিল্লির আন্দোলন শুধু যন্তর মন্তরে সীমাবদ্ধ নেই। কলকাতার পাশাপাশি মুম্বাই, হায়দরাবাদ এবং দেশের বাইরে লন্ডনেও দিল্লির শিক্ষার্থীদের সমর্থনে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের যৌথ চাপে মোদি সরকার এখন তীব্র ব্যাকফুটে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com