প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 23, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 23, 2026 ইং
সখীপুরে অনার বোর্ডে নাম তোলা নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড!

টাঙ্গাইলের সখীপুরে শহীদ আব্দুর রকিব (বীর বিক্রম) উচ্চবিদ্যালয়ের অনার বোর্ডে নাম তোলা নিয়ে রীতিমতো তুলকালাম কাণ্ড শুরু হয়েছে। ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মৃত আবুল হোসেনের ছেলে তাঁর মৃত বাবার নাম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে অনার বোর্ডে ওঠাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কিছু অনিয়ম তুলে ধরে কয়েকটি পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার হচ্ছে দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার শোলাপ্রতিমা গ্রামে অবস্থিত শহীদ আব্দুর রকিব (বীর বিক্রম) উচ্চবিদ্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অভিযোগপত্রের বর্ণনায় জানা গেছে, ২০১৩ সালের এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে শহীদ আব্দুর রকিব (বীর বিক্রম) উচ্চবিদ্যালয়ের চারজন ভুয়া পরীক্ষার্থীকে আটক করে সাজা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় তৎকালীন পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও সখীপুর পিএম পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহাদুল্লাহ মিয়া বাদী হয়ে সখীপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় শহীদ আব্দুর রকিব (বীর বিক্রম) উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলামকে আসামি করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার এড়াতে আজহারুল ইসলাম আত্মগোপনে চলে গেলে তাঁর অনুপস্থিতিতে ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভায় জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক আবুল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে প্রায় তিন মাস দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের কাছেই এক সড়ক দুর্ঘটনায় আবুল হোসেন মারা যান। সম্প্রতি তাঁর ছেলে সাকিব আল হাসান বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকদের অনার বোর্ডে বাবার নাম না দেখে বিস্মিত হন। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'তোমার বাবা কখনোই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন না।'
সাকিব আল হাসান বলেন, 'আমার কাছে বাবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের রেজুলেশনের ফটোকপি সংরক্ষিত আছে। প্রধান শিক্ষক তাঁর অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভুয়া পরীক্ষার্থীর মামলার বিষয়টি আড়াল করতে আমার মৃত বাবার সম্মানটুকু কেড়ে নিয়েছেন। আমি আমার মৃত বাবার স্মৃতিটুকু ধরে রাখতে চেয়েছি মাত্র। কিন্তু এখন ধীরে ধীরে ওই প্রধান শিক্ষকের সকল অপকর্ম প্রকাশ্যে আসতেছে।
এ ছাড়া পাশ্ববর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও তৎকালীন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি এবং কয়েকজন সহকারী শিক্ষকও মৃত আবুল হোসেনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালনের বিষয়টি স্বীকার করেন।
তৎকালীন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য সালাহ উদ্দিন বলেন, 'প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলাম মামলার আসামি হওয়ায় ম্যানেজিং কমিটির সভায় আবুল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই রেজুলেশন আমি নিজের হাতে লিখেছিলাম।' (সালাহ উদ্দিন বর্তমানে উপজেলার বহেড়াতৈল গণ উচ্চবিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।)
এদিকে আজ বুধবার সংবাদ সম্মেলন ডেকে প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলাম বলেন, আমি ২০০৩ সালে বিদ্যালয়ে যোগদান করে অদ্যবধি কোনো কর্মবিরতি ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমাকে বিদ্যালয় থেকে তাড়িয়ে দিতে না পেরে ২০১৩ সালে এইএসসি পরীক্ষার্থী নিয়ে একটি মিথ্যা মামলা করেছিল। ঠিক ওই সময়ের আওয়ামী লীগের একজন এমপি ও তাঁর দোসরেরা একটি সংরক্ষিত রেজুলেশনের মাধ্যমে আমাকে হেনস্থা করার চেষ্টা করছে। এ সময় তিনি ওই রেজুলেশনকে একটি ভুয়া ও প্রতারণামূলক রেজুলেশন বলেও মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকেরা তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাইলে এক পর্যায়ে স্বীকার করেন যে, তিনি জাতীয় পার্টির সখীপুর পৌর কমিটির সভাপতি।
সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, 'সাকিব আল হাসান নামের এক ব্যক্তির অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।'
জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত একাডেমিক সুপারভাইজার মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, আমি অনার বোর্ডে নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তদন্ত করছি। এখন প্রধান শিক্ষকের অন্যান্য অনিয়ম থাকলে তা অভিযোগের ভিত্তিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য কেউ তদন্ত করতে পারে। ইতোমধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করা হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com