প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 23, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 23, 2026 ইং
সখীপুরে এক সাঁকোতে বন্দি দুই গ্রামের যোগাযোগ

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার মরিচকুঁড়ি খালের দুই পাড়ে বিস্তৃত ঘনবসতিপূর্ণ লোকালয়। তবে খালের দুই পাড়ের সংযোগ বলতে কেবলই একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের মরিচকুঁড়ি এবং কালিয়া ইউনিয়নের বাসারচালা- এই দুই গ্রামের হাজারো মানুষের সহজ যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখন ওই জীর্ণ সাঁকোটি। একটি টেকসই সেতুর অভাবে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী, কৃষক ও বয়োবৃদ্ধরা। স্থানীয়দের মতে, এই বাঁশের সাঁকোটিতেই যেন বন্দি হয়ে পড়েছে দুই গ্রামের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা।
সম্প্রতি সরেজমিনে এলাকাটি ঘুরে জানা যায়, কাকড়াজান ইউনিয়নের মরিচকুঁড়ি ও কালিয়া ইউনিয়নের বাশারচালা গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে মরিচকুঁড়ি খাল। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে যাতায়াত করছেন। শুকনো মৌসুমে বা আবহাওয়া ভালো থাকলে হেঁটে পারাপার হওয়া গেলেও কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল পুরোপুরি অসম্ভব। ফলে কৃষিপ্রধান এই এলাকার উৎপাদিত প্রধান ফসল যেমন- ধান, হলুদ, কচু ও বেগুন বাজারে পাঠাতে কৃষকদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।
সবচেয়ে বড় বিপত্তি ঘটে জরুরি চিকিৎসা সেবা ও রোগী পারাপারের ক্ষেত্রে। মাত্র ৫ মিনিটের এই দূরত্ব অতিক্রম করতে না পেরে বাধ্য হয়ে পাশের মহানন্দপুর বাজার দিয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। এতে সময় ব্যয় হয় প্রায় এক ঘণ্টা, যা মুমূর্ষু রোগীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয় বাসিন্দা মোশারফ হো?সেন হতাশা প্রকাশ করে জানান, "বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন আমাদের এই সাঁকো পার হতে হয়। কোমলমতি ছোট বাচ্চাদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় পাই। এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে দুই গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন হতো এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হতো।"
শিক্ষার্থীদের জন্য এই সাঁকো পারাপার যেন প্রতিদিনের এক আতঙ্কের নাম। স্থানীয় শিক্ষার্থী পারভেজ আহমেদ বলে, "বাইসাইকেল নিয়ে ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা এই নড়বড়ে সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা খালে পড়ে গিয়ে বইখাতা ভিজিয়ে ভেজা কাপড়ে বাড়ি ফিরে যায়। এ ছাড়া অসুস্থ রোগী বা বয়স্ক মানুষদের পক্ষে এই সাঁকো পার হওয়া এক প্রকার অসম্ভব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় থাকা বাঁশের সাঁকোগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওইসব সাঁকোর স্থলে স্থায়ী সেতু নির্মাণ করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গ্রামবাসীর দাবি, বারবার আশ্বাস না দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে এবং দ্রুততম সময়ে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে হাজারো মানুষের প্রতিদিনের এই ঝুঁকি থেকে মুক্তি দেবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com