প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 3, 2026 ইং
এক বন্ধু কবরে আরেক বন্ধু শ্মশানে ॥ গৌরীপুরে দু’বন্ধু একইসাথে চিরঘুমে! এলাকায় মাতম

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে দুই বন্ধু তরিকুল ইসলাম রিয়াদ (২০) ও নাসির উদ্দিন (২৪) একসাথে রোববার (২ আগস্ট/২৬) চিরনিন্দ্রায় শায়িত হন। পাঁচাশি মধ্যপাড়া জামে মসজিদে দু’জনের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে বিশ^ বন্ধু দিবসে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। বগুড়ার কাহালুতে পিকআপ-ট্রাক সংঘর্ষে শনিবার দু’বন্ধুসহ চারজন নিহত হন।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের ছবি ফেসবুকে দেখেন পাঁচাশি গ্রামের শহিদ মিয়া। তারপর নাসির উদ্দিনের বাড়িতে ছুটে গেলে মারুফা আক্তার সনাক্ত করেন নিহতের সিরিয়ালে রয়েছেন তার স্বামী ‘নাসির উদ্দিন’ ও নাসির উদ্দিনের বন্ধু তরিকুল ইসলাম রিয়াদ। ওরা দু’বন্ধু প্রায় ৫বছর ধরে একসাথে গাড়ি চালায়। মাছ বোঝাই পিকআপ চালিয়ে বগুড়ায় যান নাসির উদ্দিন। ফেরার পথে রিয়াদকে গাড়ি চালাতে দিয়ে ঘুমিয়ে যান নাসির। এই ঘুমেই শেষ ঘুম-চিরনিন্দ্রায় দু’বন্ধুসহ ৪জন।
নাসির উদ্দিন উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের পাঁচাশী গ্রামের মৃত আজিম খানের পুত্র আর একই গ্রামের ফেরদৌস ইসলামের পুত্র হলেন রিয়াদ। মারুফা আক্তার জানায়, তার স্বামী বিকেল পর্যন্ত ঘুমিয়ে ছিলেন। সন্ধ্যায় মাছ নিয়ে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তার ৫ বছরের কন্যাশিশু রয়েছে। রওনা দেয়ার আগেও মুঠোফোনে পরিবারের সদস্য ও সন্তানের খোঁজখবর নেন। দুপুরেই আগেই হয়তো বাড়ি ফিরবেন। তিনি বাড়ি ফিরেছেন, তবে লাশ হয়ে।
অপরদিকে রিয়াদের বাবা দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ্য। চার ভাইয়ের মধ্যে একমাত্র কর্মক্ষম ছিলেন তিনি। তার আয়ে বাবার চিকিৎসা ও সংসার চলতো। পুত্রকে হারিয়ে বারবার মোর্ছা যাচ্ছেন তার বাবা ফেরদৌস ইসলাম। তিনি বলেন, আমার তো সবই শেষ, সড়ক আমার সব কেড়ে নিয়েছে।
এক বন্ধু কবরে আরেক বন্ধু শ্মশানে!
এ দিকে ব্যবসায়িক বন্ধু ছিলেন লুৎফুর রহমান ও শুভ দেবনাথ। দীর্ঘদিন যাবত মাছ চাষ, মৎস্য প্রজনন, মাছের খাদ্য, রোগ প্রতিরোধ ও মাছ বিক্রির শলা-পরামর্শ করতে দু’জন ভিন্নধর্মের হলেও চলতেন একসাথে। শনিবারও তার একসাথে মাছ নিয়ে যান বগুড়ায়। এ বন্ধুতে বয়স, জাত-ধর্ম নয় কর্মই ছিলো মূখ্য! শনিবার দিবাগত রাতে লাশ তাদের স্ব স্ব বাড়িতে এসে পৌঁছে। পুরো এলাকায় মাতম শুরু হয়।
লুৎফুর রহমান ময়মনসিংহ সদর উপজেলার রাঘবপুরের তৈয়ব আলীর পুত্র। তিনি ১৯৯৭ সনে লেতু মন্ডল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ময়মনসিংহ নাসিরাবাদ কলেজ থেকে ১৯৯৯সনে এইচএসসি ও ২০০১ সনে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। পারিবারিকভাবে মৎস্যচাষে বিষয়টি তিনি আয়ত্ত করে নিজে ও হাজারো যুবকদের আইডলে পরিণত হন লুৎফুর রহমান। এরপরে তিনি সাহেবকাচারী এলাকায় ভাই ভাই ফিশ সীড প্ল্যান্ট নামের একটি মৎস্য প্রতিষ্ঠান দেন। যার মাধ্যমে মাছের রেনু পোনা উৎপাদন, মাছের সুষমখাদ্য ও মাছের রোগবালাই প্রতিরোধে পরামর্শক ছিলেন। তিনি মৎস্যচাষ করে ২০১৯সনে রাষ্ট্রীয় স্বর্ণপদক অর্জন করেন। রোববার ছিলো বিশ^ বন্ধু দিবস। এই দিনে দুপুরে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুইপুত্র ও অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখেছেন। বন্ধু’র মৃত্যুকে শোক জানিয়ে ময়মনসিংহ ডিভিশনাল ৯৭ গ্রুপের এডমিন নাসির উদ্দিন জানায়, লুৎফুর ছিলো অত্যন্ত সাদাসিধে কর্মঠ একজন বন্ধু।
একই সাথে মৎস্যচাষে ব্যবসায়িক বন্ধুত্ব গড়ে উঠে শুভ দেবনাথের সাথে। তিনি একই এলাকার চিত্তরঞ্জন দেবনাথের পুত্র। মাছ বিক্রি শেষে ফেরার পথে দু’জন একগাড়িতে মারা যান। স্থানীয় শ্মশানে তার অন্ত্রোষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com