
টাঙ্গাইল মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে "জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৬’ উদযাপন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল জুলাই ম্যারাথন, জুলাই রচনা প্রতিযোগিতা, জুলাই কুইজ প্রতিযোগিতা, শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, জুলাই বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ফটোফ্রেম প্রদর্শনী এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ।
আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার সেন্টারে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম।
এ সময় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
নতুন প্রজন্মকে এই ইতিহাস জানতে হবে এবং এর চেতনা ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের সঙ্গে আমরা কোনো দিন বেইমানি করব না। শিক্ষা, গবেষণা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে দক্ষ, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরির মাধ্যমে মাভাবিপ্রবি জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান, জুলাই উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা কামাল নাসির, কমিটির সদস্য-সচিব ও শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ, উদযাপন উপ-কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. জিয়াউর রহমান, উপ-কমিটির সদস্য-সচিব ড. মোঃ রাশেদুজ্জামান প্রমুখ।
এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে থেকে জুলাই ম্যারাথনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। এর পর আইসিটি বিভাগে অনুষ্ঠিত জুলাই রচনা প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে প্রবন্ধ রচনা করেন।
একই সময়ে বিজিই বিভাগে জুলাই কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, সংবিধান এবং সমসাময়িক নানা বিষয়ের ওপর প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করেন।
সাইবার সেন্টারে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও ফটোফ্রেম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তাদের তুলির আঁচড়ে দেশপ্রেম, স্বাধীনতার চেতনা, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ফুটিয়ে তোলে।
একই স্থানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক বিভিন্ন আলোকচিত্রের প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরবর্তীতে সাইবার সেন্টারে জুলাই বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা যুক্তি, তথ্য ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত থেকে প্রতিযোগীদের উৎসাহিত করেন।