
মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন। বুধবার (৫ আগস্ট) সদর উপজেলার চৌরাকররা গ্রামে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বাঁধন, সরকারি সা’দত কলেজ ইউনিট, বিভাগীয় জোন-০১, টাঙ্গাইল এর সহযোগিতায় এই উদ্যোগে পাঠাগারের শতাধিক পাঠক-সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নারী-পুরুষ, যুবক, বয়স্কসহ নানা বয়সী মানুষ বিনামূল্যে নিজেদের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করার সুযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের রক্তদানের গুরুত্ব, নিরাপদ রক্তদান এবং জরুরি মুহূর্তে রক্তের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করা হয়। অনেকেই প্রথমবারের মতো নিজেদের রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে জানতে পেরে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ক্যাম্পেইনে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকরা আধুনিক ও নিরাপদ পদ্ধতিতে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে অংশগ্রহণকারীদের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করেন।
অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়নে সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন বাতিঘর আদর্শ পাঠগারের সভাপতি মোঃ শাহজাহান, জাহিদ হাসান, মোঃ রাকিব হোসেন, মোঃ মাহবুব হাসান, আমিনুল ইসলাম অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা মো. কামরুজ্জামান, কথা সাহিত্যিক কামরুল মোজাহীদ, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম সুমন, রেজওয়ান শরিফ, তনয় বিশ্বাস প্রমুখ।
ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া কলেজ শিক্ষার্থী মাহবুবা সোহা বলেন, ‘আগে কখনো রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করা হয়নি। এখানে এসে বিনামূল্যে নিজের রক্তের গ্রুপ জানতে পারলাম। পাশাপাশি রক্তদানের গুরুত্ব সম্পর্কেও জানতে পেরেছি।’
রক্তের গ্রুপ জানতে আসা প্রবীন ব্যক্তি জহের আলী বলেন ‘এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এলাকার অনেকেই নিজেদের রক্তের গ্রুপ জানতেন না। বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার বিনামূল্যে সেই সুযোগ করে দিয়ে প্রশংসনীয় কাজ করেছে। আমরা তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’
কথা সাহিত্যিক কামরুল মোজাহীদ বলেন ‘প্রত্যেক মানুষের নিজের রক্তের গ্রুপ জানা উচিত। একই সঙ্গে স্বেচ্ছায় রক্তদানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নিয়মিত এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা যেমন বাড়বে, তেমনি জরুরি সময়ে নিরাপদ রক্ত সংগ্রহও সহজ হবে।’
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম সুমন বলেন, "আলোকিত সমাজ গড়তে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার এর শুভ উদ্যোগের পাশে সবসময় থাকবো।"
বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘দুর্ঘটনা, প্রসবকালীন জটিলতা কিংবা হঠাৎ অসুস্থতার সময় দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নিজের রক্তের গ্রুপ জানা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় রক্তের গ্রুপ না জানার কারণে চিকিৎসা বিলম্বিত হয়, যা জীবনঝুঁকির কারণ হতে পারে। সাধারণ মানুষের এই প্রয়োজন বিবেচনায় রেখেই আমাদের এই উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক সেবামূলক নানা কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকবে।’
উল্লেখ্য, “এসো বই পড়ি নিজেকে আলোকিত করি” স্লোগানকে ধারণ করে ২১ শে ফেব্রুয়ারি ২০১০ সালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের চৌরাকররা গ্রামে গড়ে ওঠে ‘বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার’। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক, সমাজ ও পরিবেশ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।