প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 30, 2026 ইং
মধুপুরে সহকারি সমবায় কর্মকর্তার প্রতারণা : মিথ্যা দেনার দায়ে ভুগছেন হতদরিদ্র মলিদা বেগম

হতদরিদ্র ভ‚মিহীন গৃহবধূ মলিদা বেগম। সাড়ে সাত লাখ টাকা মিথ্যা দেনার দায় থেকে মুক্তির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয় মাতাব্বর, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা সমবায় কার্যালয়ে গিয়ে কোন কুলকিনারা না পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের দ্বারস্ত হয়েছেন তিনি। ভুক্তভোগি মলিদা বেগম টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ী ইউনিয়নের পালবাড়ী গ্রামের অটোচালক মো. আরিফ হোসেনের স্ত্রী।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট গোলাবাড়ী পাঁচতারা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নেন মলিদা। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি ওই ঋণ পরিশোধ করে পুনরায় ৮০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন এবং ঋণের ১৩টি কিস্তি ২৫ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করেছেন। এমতাবস্থায় চলতি বছরের ৮ জুলাই মালিদা বেগমের কাছে একটি আইনি নোটিশ আসে। ওই নোটিশে মধুপুর উপজেলার পালবাড়ী গ্রামের মাজহারুল ইসলামের পক্ষে টাঙ্গাইল জজকোর্টের আইনজীবী মো. রাজ্জাক তালুকদারের মাধ্যমে প্রদত্ত নোটিশে সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ পরিশোধের তাগিদ দেওয়া হয়েছে মলিদা বেগমকে।
ভুক্তভোগি মলিদা বেগমের দাবি, মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে তার কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন নেই। এমনকি তাকে কোনো চেকও দেওয়া হয়নি। সমবায় সমিতি থেকে ঋণ নেওয়ার সময় নিরাপত্তা জামানত হিসেবে যে চেকের পাতা জমা দিয়েছিলাম, সেই চেক হস্তগত করে চেক ডিজঅনার করে আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন মধুপুর উপজেলার সহকারি সমবায় কর্মকর্তা। এই ঘটনায় মাজহারুল ইসলাম ও আফসার আলী জড়িত। তারা চক্রান্ত করে এই চেক পাঁচতারা সমবায় সমিতি থেকে কৌশলে নিয়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
মালিদা বেগমের স্বামী মো. আরিফ হোসেন দাবি করেন, মাজহারুল ইসলাম তাদের বাড়ি সংলগ্ন ১০ শতাংশ জমি বিক্রির কথা বললে আমি ওই জমি নেওয়ার আগ্রহ পোষণ করি এবং তিন লাখ টাকা দাম নির্ধারণ হয়। আমি কয়েক দফায় ২লাখ ৬০ হাজার টাকা দেই। বাকি ৪০ হাজার টাকার জন্য চাপ দিলে মাজহারুল ইসলামের পরামর্শে গোলাবাড়ী পাঁচতারা সমবায় সমিতি থেকে জামানত হিসেবে মলিদার চেক জমা দিয়ে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তার জমির মূল্য পরিশোধ করি। পরে তিনি এই জমি দলিল করে না দিয়ে অন্যজনের নিকট বিক্রি করেন। এ নিয়ে মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পূর্বের ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করে মলিদাকে দিয়ে ওই সমিতি থেকে পুনরায় ৮০ হাজার টাকা ঋণ নেই এবং কিস্তি দিতে থাকি। আর নিরাপত্তা জামানত হিসেবে পূর্বের চেকটিই জমা রাখি।
এদিকে মাজহারুল পাঁচতারা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফছার আলীর সাথে যোগসাজশ করে চেক হস্তগত করে আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে সাড়ে ৭লাখ টাকার দাবিতে মামলা দায়ের করেছেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে গোলাবাড়ী পাঁচতারা বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফছার আলী বলেন, “মালিদা বেগম ঋণ নেওয়ার সময় আমার কাছে একটি চেক জমা দিয়েছিলেন। পরে ওই চেক তার স্বামী আরিফ ও তার সঙ্গে থাকা মধুপুর উপজেলা সমবায় অফিসের সহকারী সমবায় কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম এসে নিয়ে গেছেন। ঋণ পরিশোধের আগেই কিভাবে নিরাপত্তা জামানত ফেরৎ দিলেন এই প্রশ্নের উত্তর এরিয়ে গিয়ে বলেন, মালিদা বেগম আমাদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।”
এব্যাপারে মধুপুর উপজেলার সহকারি সমবায় কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, আরিফকে আমি ২০২৪ সালে ৭লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ দিয়েছি। আমার পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিলে আমার বাড়িতে এসে আরিফ ও মলিদা জামানত হিসেবে আমাকে একটি চেকের পাতা দিয়ে যায়। যার মাধ্যমে আমি টাকা পাওয়ার জন্য আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছি।
এ ব্যাপারে মধুপুর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি অফিসিয়াল বিষয় নয়। তাই তাদেরকে অফিসের বাইরে সমস্যা সমাধান করতে বলেছি। কারণ আমি জেনেছি একসময় তাদের গলায় গলায় পিরিত ছিল। এখন দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ায় এতদূর গড়িয়েছে। তবে ঋণের জামানত হিসেবে চেক গ্রহণ করেছেন গোরাবাড়ী পাঁচতারা বহুমূখী সমবায় সমিতি। চেক তাদের কাছেই থাকার কথা। এই চেক বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু ওই চেক কিভাবে মাজহারুলের কাছে গেল বা ওই চেক ব্যবহার করে চেক ডিজঅনার মামলা হলো বিষয়টি তদন্ত করলে মূল রহস্য বেড়িয়ে আসবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com