
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রায় নয় মাস ধরে চাষাবাদ করতে পারছেন না—এমন অভিযোগ করেছেন টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কুড়ালিয়া ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন বানিয়া বাড়ি এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা জমির ১৪০ শতাংশে চাষাবাদে বাধা দেওয়ায় কলা চাষ করতে পারেননি তিনি। এতে প্রায় ১৬ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
গোলাম মোস্তফা মৃত হোসেন আলীর ছেলে। তাঁর দাবি, হলদিয়া মৌজার ২৬ নম্বর খতিয়ানের ১১৬ নম্বর দাগে মোট ১ হাজার ৪৯০ শতাংশ জমির মধ্যে পৈতৃক ও সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে তিনি সাড়ে চার একর জমির মালিক হন। দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি চাষাবাদ ও ভোগদখল করে আসছেন তিনি।
মোস্তফার ভাষ্য অনুযায়ী, একই দাগের উত্তর-পূর্ব কোণের ২২ শতাংশ জমি স্থানীয় আলাল গং সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে মালিকানা লাভ করেন। প্রায় ১০-১২ বছর আগে আলাল গংয়ের সঙ্গে স্থানীয় মাতব্বরদের মধ্যস্থতায় অন্য দাগের ২৪ শতাংশ জমির সঙ্গে ওই জমির ‘রেওয়াজ বদল’ করা হয়। তবে প্রায় নয় মাস আগে আলাল, দুলাল ও হেলালসহ কয়েকজন ওই রেওয়াজকৃত জমি বুঝে না দিয়েই পুনরায় তাঁদের দাবিকৃত জমিতে আসেন। এরপর থেকেই ১৪০ শতাংশ জমিতে চাষাবাদ বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ মোস্তফার।
তিনি জানান, ওই জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি কলা চাষ করে আসছিলেন। জমির নামজারি (খারিজ) করা রয়েছে এবং নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন করও পরিশোধ করছেন বলে দাবি তাঁর।
মোস্তফার অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে কলার চারা রোপণ করতে না পারায় তাঁর প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় নষ্ট হয়েছে। চারা, সার, শ্রমিক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বাবদ এ অর্থ খরচ করেছিলেন তিনি। সময়মতো চারা রোপণ করতে পারলে কলা বিক্রি করে আরও প্রায় ১৩ থেকে ১৪ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব হতো। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৬ লাখ টাকা বলে দাবি তাঁর।
গোলাম মোস্তফা বলেন, “জমির কাগজপত্র আমার নামে রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে আমি জমিটি ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু বিরোধের কারণে প্রায় নয় মাস ধরে জমিতে যেতে ও চাষাবাদ করতে পারছি না। এতে আমি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।”
তাঁর দাবি, জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তদন্ত করে কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধান করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে চাষাবাদের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে আলালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
মোস্তফা জানান, এ বিরোধের ঘটনায় আলাল গংয়ের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে এলাকায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তাঁদের মতে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জমির দলিল, খতিয়ান, নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন করের নথি যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান করা জরুরি।
এদিকে, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকলে চূড়ান্ত মালিকানা নির্ধারণের বিষয়টি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে। তবে এর আগে বিরোধপূর্ণ জমিতে যাতে কোনো পক্ষ আইন নিজের হাতে তুলে না নেয় এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।