প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 6, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 6, 2026 ইং
টাঙ্গাইলে ‘সুইট ফেস্টিভাল’, বৃষ্টি উপেক্ষা করে মিষ্টি প্রেমীদের ভীড়

টাঙ্গাইল শহরের ছেলে বর্ণ দাস। এবার এসএসসি পাশ করেছে। তার নিজ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে বিভিন্ন রকমের মিষ্টি। কিন্তু সব মিষ্টির স্বাদ নেওয়া হয়নি। নাম শুনেছেন, এর আগে দেখা হয়নি অনেক মিষ্টি। আজ এক প্রাঙ্গণে এসেই তার দেখা হয়ে গেলো টাঙ্গাইলের বিভিন্ন প্রান্তের তৈরি হওয়া মিষ্টি।
টাঙ্গাইলে আয়োজিত ‘সুইট ফেস্টিভাল’ বা মিষ্টি উৎসবের আয়োজন করেছে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন। উৎসবের দ্বিতীয় দিনে শনিবার বৃষ্টি উপেক্ষা করে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে ভির করেন মিষ্টি প্রেমীরা। বর্ণ দাস তাদেরই একজন। মিষ্টি দেখে খেয়ে বললেন, ‘আজ অনেক নতুন নতুন মিষ্টি দেখলাম। খেলামও অনেক মিষ্টি। এক মাঠেই সব মিষ্টি দেখে খুব ভালো লাগলো।’
মেলায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চমচম, মির্জাপুরের জামুর্কীর সন্দেশ, মধুপুরের জিলাপি, গারোর বাজারের রসোগোল্লা, নাগরপুরের কাচা গোল্লা, বাসাইলের সাদাদইসহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে তৈরি হওয়া মিষ্টির দেখা মিলেছে এই মেলায়। প্রত্যেক উপজেলা থেকে স্টল অংশ নিয়েছে। ওই সব স্টলে নিজ নিজ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি প্রদর্শন ও বিক্রয় করা হয়।
শুক্রবার বিকেলে মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মেলার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি বলেন, ‘টাঙ্গাইলের চমচম সারা বাংলাদেশ তথা বিশ্বের অনেক মানুষই কম বেশি চেনে। টাঙ্গাইলের শাড়ি যেমন বাংলাদেশের গর্ব ও ঐতিহ্য, তেমনি চমচমও আমাদের ঐতিহ্যে অংশ। এই পণ্যকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায় সেটি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।’
দুপুরে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ঝড়ছিলো। তা উপেক্ষা করে অনেক মানুষ ভীড় করে মেলায়। শহরের সাবালিয়া এলাকার অমিনুর রহমান বলেন, মিষ্টির জন্য টাঙ্গাইলের অনেক সুনাম রয়েছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে নানা রকমের মিষ্টি তৈরি হয়। ছোট মেয়েকে এই সব মিষ্টির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেই মেলায় এসেছি।
মানিকগঞ্জের ব্যাংক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ব্যক্তিগত কাজে টাঙ্গাইলে এসেছিলেন। মিষ্টি উৎসবের কথা শুনে চলে আসেন উৎসব প্রাঙ্গণে। তিনি বলেন, এ মেলায় অনেক মিষ্টি দেখলাম। মিষ্টি খেলাম। আবার বাড়ির জন্যও নিয়ে যাচ্ছি।
সরকারি মওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা বলেন, টাঙ্গাইলকে বলা হয় মিষ্টির জেলা। এ জেলার চমচম, সন্দেশ জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। মিষ্টির জেলা হলেও এর আগে কখনও মিষ্টি উৎসব হয়নি। এ উৎসব নতুন প্রজন্মকে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির প্রতি আকৃষ্ট করতে ভূমিকা রাখবে।
মেলায় অংশ নিয়েছে টাঙ্গাইলের জয় কালী মিষ্টান্ন ভান্ডার। এর মালিক স্বপন ঘোষ জেলা মিষ্টি ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি। তিনি বলেন, মেলায় প্রচুর লোক আসছে। মিষ্টির প্রতি মানুষের আগ্রহ রয়েছে। এই প্রথম বারের মতো আয়োজিত মিষ্টি উৎসব সফল।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, এই উৎসবের মধ্যদিয়ে টাঙ্গাইলের মিষ্টি শিল্পকে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে তরুণদের জন্য উদ্যোক্তা তৈরির প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা এবং স্থানীয় পণ্যের প্রসারের মধ্য দিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এই আয়োজনের উদ্দেশ্য।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com