প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 24, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 24, 2026 ইং
শিক্ষিত বেকার বাড়ছে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে

দেশে প্রতিবছর লাখো তরুণ-তরুণী উচ্চশিক্ষার সনদ দিয়ে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী কাজ পাচ্ছেন না। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আমাদের মতো দেশের জন্য এটিই নির্মম বাস্তবতা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) গবেষণার বরাত দিয়ে দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে। জানিয়েছে, দেশে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশই বেকার। আরো উদ্বেগজনক তথ্য হলো, দেশের সামগ্রিক তরুণ বেকারত্বের হার যেখানে প্রায় ১০ শতাংশ, সেখানে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার সাড়ে তিন গুণ। আইএমএফের 'ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট' সাময়িকীর সেপ্টেম্বর সংখ্যায় এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
সেখানে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তরুণদের বেকারত্ব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, এশিয়াজুড়ে তরুণদের বেকারত্ব একটি বড় সমস্যা হলেও সবচেয়ে বেশি বেকারত্ব দেখা যাচ্ছে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে। দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলঙ্কায় উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৪৩ শতাংশ। ভারতে এই হার প্রায় ৪২ শতাংশ এবং বাংলাদেশে ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে হার তুলনামূলক কম। ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১৮ শতাংশ, ভিয়েতনামে ১৬ শতাংশ, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে ১৩ শতাংশ করে এবং ফিলিপাইনে প্রায় ১২ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত তরুণ বেকার। সিঙ্গাপুরে এই হার প্রায় ৮ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশে শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের কারণ হিসেবে চাকরির বাজারের সঙ্গে শিক্ষার অসাম্যঞ্জস্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইএমএফ এ পরিস্থিতিকে 'গ্র্যাজুয়েট গাট' বা অতিরিক্ত স্নাতক তৈরির সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এর সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আইএমএফ বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে। তবে দক্ষতা বাড়ানোর চেয়ে দ্রুত এ প্রযুক্তি গ্রহণ করা হলে তরুণদের শ্রমবাজারে চাপ আরো বাড়তে পারে।
দেশের ওয়াকিফহাল মহল দীর্ঘদিন থেকেই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার নানা অসংগতির কথা বলে আসছেন। বিশেষ করে সনদনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে বড় বিপাকে ফেলে দিয়েছে। একদিকে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করে একজন তরুণ উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে, এই আশায় যে ভবিষ্যতে একটি ভালো চাকরি পাবেন। পরিবারও সর্বস্ব দিয়ে সন্তানকে মানুষ করতে চায়। কিন্তু পড়ালেখা শেষ করে দেখা যায় চাকরি নেই। এ ছাড়া আমাদের অর্থনৈতিক সংকটও কাটছে না। মধ্যপ্রাচ্যে। যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সেই ধাক্কা এসে লাগছে দেশীয় বাজারেও। বিশেষ করে জ্বালানিসংকটের কারণে বহুমুখী সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক কারখানা চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারছে না। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধের উপক্রম। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে চাহিদামতো বিনিয়োগ না আসায় প্রত্যাশিত মাত্রায় কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। এসবের ফলেও বেকারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, আগামী এক দশকে উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে প্রায় ১২০ কোটি মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করবে। এত বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করা এশিয়ার দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। আমরা মনে করি, টেকসই পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হলে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব। দেশের শিক্ষা খাতে সংস্কারের পাশাপাশি তরুণদের বহুমুখী দক্ষতা বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। তবে কর্মসংস্থান বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com