প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 24, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 24, 2026 ইং
প্রগতির আলো : সত্য ও সুন্দরের প্রতিচ্ছবি

মাহমুদ কামাল
প্রগতি নয় আমরা এখন দুর্গতির মধ্যে আছি। বিজ্ঞান এগিয়েছে বহু দূর কিন্তু পিছিয়ে পড়েছে আমাদের মানবিক চেতনা। আমাদের বলতে পুরো পৃথিবী। বৈশি^ক পরিস্থিতি একেবারেই ভারসাম্যহীন। বাইরের বাতাসে আমাদের সবকিছুই এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। আমাদের সহ্যশক্তি এখন নিম্ন পর্যায়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দুনিয়াকে এবং দুনিয়ার মানুষকে যেমন কাছে নিয়ে এসেছে আবার সেই মানুষকে দূরেও ঠেলে দিচ্ছে। অহেতুক ঘৃণা ও বিদ্বেষ এক মুহূর্তেই বিচারহীন ভাবে আমাদের মানসিকতাকে পাল্টে দিতে দ্বিধা করছে না। এখন গালি দেয়ার অধিকার চাচ্ছে একাডেমিক শিক্ষিত কেউ কেউ। তাদের শিক্ষাটাই এখন প্রশ্নবিদ্ধ। তাহলে কি নৈতিক শিক্ষার এখন আর প্রয়োজন নেই? প্রবল স্রোতের মধ্য দিয়ে একটা পরিবর্তন হয়েছে। সেই স্রোতের সাথে অনেক বেনোজল ঢুকে গেছে। তারাই সক্রিয়। সৃষ্টির বিপরীতে তৈরি করছে এমন অনাসৃষ্টি যা ভাবতে কষ্ট হয়। আমাদের সম্মৃদ্ধ অতীত ছিল। কিন্তু ইতিহাস আমরা এখন ছুঁয়ে দেখি না। ভুল গল্প চারদিকে। এমনকি খবরের কাগজও মাঝে মাঝে ভুল গল্প বলে। ছাপার অক্ষরের জাদুকরী একটা সম্মোহন আছে। আমাদের বিচার বুদ্ধির ক্ষমতা এতটাই কম যে ভুল শুদ্ধ নির্ধারণ করতে আমরা বিপরীতমুখি হয়ে উঠি। শুরুতেই প্রগতির দুর্গতির কথা বলা হলেও এখনও তা পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যায়নি। তাই শিরোনাম যেহেতু ‘প্রগতির আলো’ এবার এর ভেতরে প্রবেশ করি। অর্থ্যাৎ দৈনিক প্রগতির আলো নিয়ে দু’চার কথা বলি।
দৈনিক প্রগতির আলো পঁচিশ বছর থেকে বের হয়। মাঝখানে কয়েক বছরের জন্য থমকে গিয়েছিল বেনোজলের কারণে। পত্রিকাটির নামের অর্থ তার প্রকাশনার মধ্যেই পরিস্ফুটিত। এ জেলা থেকে এখন অনেক দৈনিক-সাপ্তাহিকী বের হয়। প্রায় কাগজেই জেলার খবর থাকে। প্রগতির আলোতেও। কিন্তু কিছুটা হলেও ব্যতিক্রম আছে। তা হলো মাঝে মধ্যেই পত্রিকাটি এক্সস্কুসিভ খবর প্রকাশিত করে। বিপদ এখানেই। পড়েছেও একবার। ঠিক হতে হতে কয়েক বছর ঝরে গেছে। তো, এই পত্রিকার সম্পাদককে যতটুকু জানি তা হলো সে ভাঙে তবে মচকায় না। আমার সৌভাগ্য সম্পাদক আনোয়ার সাদাত ইমরানকে আমি ছাত্র হিসেবে পেয়েছিলাম। বিনয়ী কিন্তু সাহসী। সৎ এবং একগুয়ে। একগুয়ে শব্দটি এখানে ইতিবাচক হিসেবেই ব্যবহার করেছি।
যথারীতি জেলার সব খবরা খবর এই পত্রিকায় পাওয়া যায়। সব চেয়ে বড়ো কথা হলুদ সাংবাদিকতার কোনও তকমা এখনও তার নামের আগে বসেনি। এখন অসংখ্য সাংবাদিক পয়দা হয়েছে। একটা মোবাইল থাকলেই সাংবাদিকতা করা যায়। শুদ্ধ বাক্য লেখাতো দূরের কথা শুদ্ধ ভাবে কথাও বলতে পারে না সেই সব ‘সাংঘাতিক।’ ফেসবুকে দেখি এবং বলতে শুনি, ‘আমরা গণমাধ্যমিক সাংবাদিক।’ একবার নয় বারবার। এক জনের মুখে নয় অনেকের মুখেই। সংখ্যায় তারাই বেশি। বেনোজল এখানেও।
নানা ঝড় ঝাপ্টা পেরিয়ে প্রগতির আলো সুস্থ সাংবাদিকতা করেই টিকে আছে। দুর্গতির এই সময়ে কিছুটা হলেও তা যদি জোনাকীর আলোও হয় সেই আলোতেই আমরা দেখে নেব টিকে থাকা সত্য ও সুন্দর যা প্রতিটি মানুষেরই কাম্য।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com