প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 29, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 29, 2026 ইং
ঘাটাইলে মাদ্রাসা শিক্ষক কতৃক ৯ বছরের শিশু বলাৎকার : অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেফতার

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এবার বলাৎকারের শিকার হয়েছে ৯ বছরের এক মাদরাসা শিক্ষার্থী। নির্যাতনের কারনে অসুস্থ হয়ে পড়েছে শিশুটি। পূর্ব লোকেরপাড়া মারকাযুল কোরআন রিজিয়া ফজলুর রহমান হাফিজিয়া মাদরাসায় ঘটেছে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা। ইতিমধ্যেই পুলিশ অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ হানিফ আলীকে আটক করেছে। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে পুরো জেলাজুড়ে।
জানা যায়, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পূর্ব লোকেরপাড়া এলাকায় ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মারকাযুল কোরআন রিজিয়া ফজলুর রহমান হাফিজিয়া মাদরাসা। ওই মাদ্রাসায় হাফেজ হওয়ার আশায় ভর্তি হয় যোগিহাটি গ্রামের ৯ বছরের এক শিশু। ছয় পাড়া কোরআন মুখস্তও করে সে। গেলো বৃহস্পতিবার রাতে পড়া শেষ করে নিজের কক্ষে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে মাথার চুল টেনে দিতে বলে হাফেজ হানিফ আলী। পরে মধ্য রাতে তাকে নির্যাতন করে নিজের কাছেই রেখে দেয়। কাউকে বললে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হয় তাকে। পরদিন শুক্রবার অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে ফিরে শিশুটি তার মায়ের কাছে ঘটনার কথা জানায়। পরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে তারা মাদরাসায় গিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করেন।
ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করে বলেন, “ছেলেকে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার জন্য মাদরাসায় পাঠিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে আমার নিষ্পাপ সন্তান এমন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যে ব্যক্তি আমার ছেলের সঙ্গে এমন নোংরা কাজ করেছে, আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। এমন শাস্তি চাই, যাতে আর কোনো মায়ের কোমল শিশুর সঙ্গে কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।” কথা বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ঘটনার খবর সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়লে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মাদরাসা কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষক হানিফকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও ওই মাদরাসায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। তাদের অভিযোগ, সে সময় অভিযুক্ত শিক্ষককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছিলেন বর্তমান অভিযুক্ত শিক্ষক হানিফ। তবে আগের ঘটনায় সতর্ক হলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না।
ঘটনার পুনরাবৃত্তির অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তারা মাদরাসায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
লোকেরপাড়া ও এস ফাযিল মাদরাসার সভাপতি কাওসার আহম্মেদ কায়েস বলেন, “আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে অভিযোগটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
ভুক্তভোগীর চাচা লুৎফর রহমান বলেন, “আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। একটি শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ আইনগত শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোকসেদুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com