প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 10, 2026 ইং
জনবল ও সরঞ্জাম সংকট ॥ দেলদুয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত ভোগান্তিতে লাখো মানুষ

ভবন রয়েছে ৫০ শয্যার, কিন্তু স্বাস্থ্যসেবা চলছে সেই পুরোনো ৩১ শয্যার অবকাঠামো ও সীমিত জনবল দিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক জনবল সংকট, জরাজীর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধার অভাবে পুরোপুরি খুঁড়িয়ে চলছে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এতে চরম ভোগান্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন সরকারি এই চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যা পদে উন্নীত করে নতুন ভবনের উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ নয় বছর পার হতে চললেও সেখানে ৫০ শয্যার কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়নি। বর্তমানে ৫০ শয্যার নতুন ভবনটি অব্যবহৃত পড়ে থাকায় ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ রোগীকে পুরনো ভবনের মেঝে ও নোংরা বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতালের ১২৯টি পদের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, একাধিক মেডিকেল অফিসার, নার্স ও গুরুত্বপূর্ণ টেকনিশিয়ানসহ অন্তত ৩৭টি পদই ফাঁকা। চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মেডিসিন কনসালট্যান্ট আবার টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রেষণে (ডেপুটেশনে) কর্মরত। এছাড়া সহকারী নার্স, আয়া, ক্যাশিয়ার, বাবুর্চি, ড্রাইভার, মালি ও স্টোর কিপারসহ গুরুত্বপূর্ণ সব সহায়ক পদগুলো শূন্য থাকায় ভেঙে পড়েছে পুরো চিকিৎসাব্যবস্থা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৫০০ থেকে ৬০০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসলেও ভর্তি থাকেন ৬০ থেকে ৭০ জন। কিন্তু হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর (১৯৮৪ সাল) থেকে কোনো নতুন প্রযুক্তি বা যন্ত্রপাতি আসেনি।
৪২ বছরের পুরোনো জরাজীর্ণ এক্স-রে মেশিন দিয়ে খুঁড়িয়ে চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যা প্রায়শই ভুল রিপোর্ট দেয়। একমাত্র আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনটিও মাঝেমধ্যেই বিকল হয়ে পড়ে এবং বন্ধ রয়েছে ল্যাবের অটো অ্যানালাইজার। এমনকি গেটের সামনে অ্যাম্বুলেন্স পড়ে থাকলেও চালক না থাকায় সংকটাপন্ন রোগীদের চড়া দামে বেসরকারি গাড়িতে টাঙ্গাইল বা ঢাকায় যেতে হচ্ছে।
হাসপাতালে আসা ভুক্তভোগী বানেজ খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বেলা ১১টায় ভর্তি হলেও সারাদিনে কোনো ডাক্তার আসেননি, শুধু নার্স এসে ওষুধ দেখে গেছেন। এভাবে সরকারি হাসপাতাল চলতে পারে না।" চরপাড়া গ্রাম থেকে আসা আরেক রোগী আজমত জানান, জ্বর ভালো না হতেই হাসপাতাল থেকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয় এবং অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করা হয়। তাছাড়া ভর্তি থাকা রোগীদের সঠিক সময়ে খাবার না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
গাইনি বিশেষজ্ঞ থাকলেও অ্যানেস্থেটিস্ট (অচেতনবিদ) না থাকায় বন্ধ রয়েছে নিয়মিত অস্ত্রোপচার। প্যাথলজি ও রেডিওলজি কক্ষগুলো বেলা ১টার আগেই বন্ধ পেয়ে ক্ষোভ জানান দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা।
দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজিয়া আফরিন জানান, "৫০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন হলেও বরাদ্দ ও জনবল এখনো ৩১ শয্যার। চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণের ও বেশি রোগীকে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে । অ্যাম্বুলেন্স চালক ও নতুন চিকিৎসা সরন্জামের জন্য একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপেক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত আশানুরুপ কোনো সমাধান মেলেনি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com