প্রিন্ট এর তারিখঃ Nov 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 3, 2026 ইং
শ্রমিক অসন্তোষ যমুনা সেতু দিয়ে কমেছে যানবাহন পারাপার, আতঙ্কে চালক ও যাত্রীরা

কামাল হোসেন
ঢাকা ও গাজীপুরে গার্মেন্টসগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ ও দফায় দফায় সড়ক অবরোধের প্রভাব পড়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে। গত একমাসের তুলনায় শনিবার ও রোববার এই দুইদিনে সড়কটিতে কমেছে যানবাহনের সংখ্যা। সেই সাথে কমেছে যমুনা সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপারও। ভোগান্তি থেকে দূরে থাকতে অনেক যাত্রীই ধাবিত হচ্ছে ট্রেনের দিকে। উত্তরাঞ্চলের অনেক যানবাহন আবার বিকল্প পথ হিসেবে আরিচা ঘাট ব্যবহার করছে। যাত্রী ও চালকদের মাঝে বিরাজ করছে আতঙ্ক।
জানা যায়, নূন্যতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে গেলো কয়েকদিন ধরেই শ্রমিক অসন্তোষ চলছে ঢাকা ও গাজীপুরের গার্মেন্টসগুলোতে। শ্রমিকরা বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে দফায় দফায়। পুলিশের সাথেও জড়ায় সংঘর্ষে। বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। এর প্রভাব পড়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে। সড়কটিতে কমেছে যানবাহনের সংখ্যা। সেই সাথে কমেছে যমুনা সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপারও। দিনের বেলার চেয়ে রাতে যানবাহন বেশি চলাচল করছে।
যমুনা সেতু সাইট অফিস সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১২ টা থেকে রোববার রাত ১২ টা ২৩ হাজার ৪৮৮ টি যানবাহন পারাপার হয়। এতে টোল আদায় হয় ২ কোটি ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৩০০ টাকা। এর আগে শুক্রবার রাত ১২ টাকা থেকে শনিবার রাত ১২ টা পর্যন্ত যানবাহন পারাপার হয়েছে ২২ হাজার ৪০১ টি। আর টোল আদায় হয় ২ কোটি ৮৩ হাজার ৮৫০ টাকা। যা গত একমাসে সর্বনিম্ন যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়।
এদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও যানজটের কারনে ট্রেন যাত্রাকে নিরাপদ মনে করছেন যাত্রীরা। এছাড়াও উত্তরাঞ্চলের অনেক যানবাহন বিকল্প পথ হিসেবে আরিচা ঘাট ব্যবহার করে নবীনগর হয়ে ঢাকায় যাচ্ছে।
যমুনা সেতু পূর্ব পার ইব্রাহিমাবাদ রেলস্টেশনে মনির নামে এক যাত্রী জানান, তিনি নিয়মিত উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন বাসে ঢাকায় যাতায়াত করেন। কিন্তু গার্মেন্টস কর্মীদের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও যানজটের কারনে ভোগান্তির কথা চিন্তা করে ট্রেনকেই বেছে নিয়েছেন।
এলেঙ্গায় কথা হয় ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করা আজহারুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির সাথে। তিনি জানান, যেভাবে হামলা-ভাঙচুর হচ্ছে গন্তব্যে যাওয়া নিয়ে আতঙ্কে রয়েছি। তারপরও চাকরি বাঁচাতে যেতেই হবে।
টাঙ্গাইলের নিরালা বাস চালক ইয়ার আলী বলেন, গাড়ি নিয়ে ঢাকা যাওয়ার পথে কালিয়াকৈরে হামলা ও ভাঙচুর চালায় শ্রমিকরা। এতে গাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গ্যারেজে কাজ করাচ্ছি। গাড়ি নিয়ে বের হতেই ভয় করে আর যাত্রীও পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা বাস-কোচ ও মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি শফিকুর রহমান খান জানান, টাঙ্গাইলের বেশ কয়েকটি বাস ভাঙচুর করেছে শ্রমিকরা। ফলে চালকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা গাড়ি নিয়ে সড়কে নামতে চাচ্ছে না। কমে গেছে যাত্রীর সংখ্যা। সেই সাথে কমে গেছে আয়ও।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, গার্মেন্টস কর্মীদের অসন্তোষের কারনে স্বাভাবিকের চেয়ে যমুনা সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপার দুই থেকে তিনহাজার কমে গেছে। সেই সাথে টোল আদায়ও কমেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com