ঢাকা | 22 September 2026

টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

স্টাফ রিপোর্টার, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Sep 22, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবির ক্যাপশন:
ad728
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মুনিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বক্স খাটের নিচে লুকিয়ে রাখার চাঞ্চল্যকর মামলায় স্বামী মুস্তাককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ মোঃ হাফিজুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামী মুস্তাক গোপালপুর উপজেলার বাগুয়াটা গ্রামের মৃত হাজী আজমত আলীর ছেলে। তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আলামত গোপন ও লাশ গুম করার অপরাধে আরও ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। 

রাষ্ট্রপক্ষে সরকারি কৌশুলি মোঃ শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, নিহত জান্নাতুল ফেরদৌস মুনিয়া ও আসামী মুস্তাকের প্রায় ১২ বছর আগে বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে দুটি পুত্রসন্তান রয়েছে। মুস্তাক দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন এবং ঘটনার প্রায় ১০ মাস আগে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর থেকে তাদের পারিবারিক কলহ ও নির্যাতন চলতে থাকে। তারা ভূঞাপুর থানাধীন ঘাটান্দি গ্রামের জহুরুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর বিকালের মধ্যে যেকোনো সময় আসামী মুস্তাক তার স্ত্রী মুনিয়াকে ঘরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ঘরের উত্তর-পশ্চিম কোণায় থাকা বক্স খাটের তোশক ও পাটাতন তুলে তার নিচে লাশ লুকিয়ে রাখেন। ​ 

ঘটনার দিন সকালে আসামী মুস্তাক তার ছোট ছেলেকে নিয়ে শ্যালিকা নাসরিনের বাসায় রেখে বাজার করার কথা বলে সরে পড়েন। অন্যদিকে বড় ছেলে আল-মাসুদকে নিজ ঘরে বাইরে থেকে ছিটকিনি আটকে আটকে রেখে যান। সকালে বাসার কেয়ারটেকার ছিটকিনি খুলে দিলে বড় ছেলে তার খালার বাসায় যায়। সারাদিন ধরে মুনিয়ার খোঁজ না পেয়ে এবং আসামী মুস্তাকের ফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে বিকাল ৫টার দিকে স্বজনরা ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বক্স খাটের নিচ থেকে মুনিয়ার তোশক ও পাটাতন সরিয়ে লাশ উদ্ধার করেন। 

মোঃ শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই মোঃ আমিনুল ইসলাম খান বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভূঞাপুর থানার এস.আই মোঃ মেহেদী হাসান তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর আসামী মুস্তাকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলা চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ ও যুক্তিযুদ্ধ শেষে আদালত আসামী মুস্তাকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় প্রদান করেন। 

তিনি আরও জানান, মামলা চলাকালীন আসামী মুস্তাক জামিন নিয়ে আত্মগোপন করেন। তিনি বর্তমানে পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন এবং তার জামানত বাজেয়াপ্ত করেছেন। আসামী গ্রেপ্তার বা আদালতে আত্মসমর্পণের দিন থেকে তার এই কারাদণ্ড কার্যকর হবে।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ