ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে এবার ঈদ যাত্রায় পুরোটাই চার লেনের সড়ক ব্যবহারের সুযোগ পাবে যানবাহন। তারপরও যানজটের শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
মহাসড়ক চার লেন হলেও যমুনা সেতু দুই লেনের। তাই সেখানে যানজট লেগে যেতে পারে। এছাড়া ঈদের ছুটি শুরু হলে প্রচুর ফিটনেস বিহীন যানবাহন দূর গন্তব্যে যাত্রা শুরু করে। এসব যানবাহন বিকল হয়ে সৃষ্টি হতে পারে যানজটের। পুলিশ, সেতু কর্তৃপক্ষ ও যানবাহনের চালকদের সাথে আলাপ করে এ শঙ্কার কথা জানা গেছে।
ঢাকা-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার টাঙ্গাইল জেলার মধ্যে পরেছে। সেতুর টোলপ্লাজা সূত্র জানায়, এ সড়ক হয়ে প্রতিদিন ২০-২১ হাজার যানবাহন সেতু পারাপার হয়। ঈদের ছুটি শুরু হলে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা কয়েকগুন বেড়ে যায়।
সড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের গোড়াই থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ছয় লেন মহাসড়ক অনেক আগে থেকেই চালু রয়েছে। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার চার লেনের কাজ চলছে। এই অংশের নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোমেন লিমিটেডের প্রকল্প ব্যবস্থাপক রবিউল আওয়াল জানান, নির্মান কাজ শেষ না হলেও এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়ক চার লেনের পুরো সুবিধা নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। কোথাও কোথাও ছয় লেনের সুবিধা পাচ্ছে।
পুলিশ ও যানবাহনের চালকরা জানান, ঢাকা থেকে চার লেনের সুবিধা নিয়ে দ্রুত যানবাহন যমুনা সেতু পর্যন্ত চলে আসতে পারবে। কিন্তু সেতুতে টোল প্রদানে সময় লাগা এবং দুই লেনের সেতু পারাপার হতে গিয়ে জট লেগে যেতে পারে। এছাড়া ঈদের ছুটিতে ঢাকা, গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমজীবী মানুষ ফিটনেস বিহীন গাড়িতে দূর পাল্লায় যাত্রা করে। এসব গাড়ি মহাসড়কের বা সেতুর উপর বিকল হলে এবারও যানজট সৃষ্টি হতে পারে।
হাইওয়ে পুলিশের এলেঙ্গা ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) মো. শরীফ জানান, গত বছর ঈদেও সেতু উপর এবং মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন বিকল হয়ে যায়। এজন্য যানজটের সৃষ্টি হয়েছিলো। চার লেন সড়ক হলেও এসব যানবাহন রাস্তায় নামলে যানজটের শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
যমুনা সেতু টোলপ্লাজা সূত্র জানায়, গত বছর ঈদুল ফিতরের ছুটি হওয়ার পর ২৫ মার্চ ৪৮ হাজার ৩৬৮টি যানবাহন সেতু পারাপার হয়। ঈদ উল আযহার ছুটি শুরু হওয়ার পর গত বছর ১৫ জুন ৬৬ হাজার ৪৮৯টি যানবাহন সেতু পারাপার হয়।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শরীফ জানান, একটি যানবাহন বিকল হলে তা মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নিতে ১০ মিনিট সময় লাগলেও দীর্ঘ জটের সৃষ্টি হয়ে যায়।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, স্বাভাবিক অবস্থায় পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে সাতটি করে বুথে টোল আদায় করা হয়। ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার পর সেতুর টোলপ্লাজায় টোল আদায় বুথের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। প্রতি প্রান্তে নয়টি করে বুথে টোল আদায় করা হবে। মোটরসাইকেলের জন্য পৃথক বুথ থাকবে। সেতুতে যানবাহন বিকল হলে বা দুর্ঘটনার শিকার হলে তা সরিয়ে নেয়ার জন্য র্যাকার প্রস্তুত রাখা হবে।
রোববার দুপুরে টাঙ্গাইল শহর বাইপাস থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার সড়ক সরেজিমন পরিদর্শন করে দেখা যায়, মহাসড়কের অবস্থা ভালোই আছে। এলেঙ্গার পর থেকে চার লেনের কাজ চলছে। এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের পরে ফ্লাইওভারের কাজও চলছে। তবে সম্পূর্ণ সড়কেই চার লেন চালু আছে।
পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, যেসব জায়গায় সমস্যা হতে পারে ওইসব জায়গা আমরা চিহ্নিত করেছি। মহাসড়কে ৩টি শিফ্টে ২৪ ঘণ্টাই পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। ঈদের ৫দিন আগে থেকে মহাসড়কে যানজট নিরসনে ১ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশ চারটি ভাগে ভাগ করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।