ঢাকা | 15 January 2026

আজ টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস

স্টাফ রিপোর্টার, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Dec 11, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবির ক্যাপশন:
ad728
আজ ১১ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমপর্ণ ও পলায়নের মধ্য দিয়ে মুক্ত হয় টাঙ্গাইল।সারারাত মুক্তিযোদ্ধাদের সারাশি আক্রমণ ও প্রচণ্ড গোলাগুলিতে বিনিদ্র রাত কাটায় শহর ও শহরতলির লোকজন। অবশেষে সে কাঙ্খিত মুহূর্তটি ঘনিয়ে আসে। ধবংসস্তুপের মধ্য দিয়ে স্বজন হারাদের বিয়োগ ব্যথা ভুলে হাজার হাজার উৎফুল্ল জনতা রাস্তায় নেমে প্রাণের স্পন্দন আর মুক্তির আনন্দে উদ্বেল হয়ে নবজন্মের সেই মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে তোলে।

৮ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলে প্রায় পাঁচ হাজার পাক সেনা ও সাত হাজার রাজাকার আলবদর অবস্থান করে। খান সেনাদের শক্তি বৃদ্ধির জন্য যমুনা নদী পথে পাঠানো হয় সাতটি জাহাজ ভর্তি অস্ত্র ও গোলাবারুদ। কাদেরিয়া বাহিনী গোপনে এই খবর পেয়ে জাহাজ ধবংস করার জন্য মাইন পোতার দায়িত্ব দেয় কমান্ডার হাবিবুর রহমানকে। জীবনবাজী রেখে মাটিকাটা নামকস্থানে ঘটানো হয় জাহাজ বিস্ফোরণ। দু’টি জাহাজে দু’রাত দু’দিন ধরে চলতে থাকে অনবরত বিস্ফোরণ। বাকি জাহাজগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ আধুনিক অস্ত্র শস্ত্র উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় জেলার বিভিন্ন স্থানে।

মুক্তি বাহিনীর এ সব আক্রমণ, গোলাবারুদ ধ্বংস ও অস্ত্র উদ্ধারে খান সেনারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
টাঙ্গাইল অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকী অন্যান্য যোদ্ধাদের নিয়ে সখিপুরের মহানন্দা ও কীর্ত্তনখোলায় গড়ে তোলেন দুর্ভেদ্য দূর্গ। একের পর এক আক্রমণের মুখে পাক সেনারা গুটিয়ে জেলার অন্যান্য স্থান থেকে এসে যখন টাঙ্গাইল শহরে অবস্থান নেয় তখন উত্তর ও দক্ষিণ টাঙ্গাইল ছিল সম্পূর্ণ মুক্তিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

৮ ডিসেম্বর পরিকল্পনা করা হয় টাঙ্গাইল আক্রমণের। পরে কালিহাতীর পুংলি নামকস্থানে মিত্র বাহিনীর সঙ্গে সংর্ঘষ হয় পাক সেনাদের। অবস্থা বেগতিক দেখে প্রাণ ভয়ে পাক সেনারা সারারাত ধরে টাঙ্গাইল ছেড়ে ঢাকার দিকে পালায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী চার দিক থেকে সারাশি আক্রমণ চালিয়ে পাক সেনাদের টাঙ্গাইল থেকে বিতারিত করতে সক্ষম হয় কাদেরিয়া বাহিনী।

অবশেষে ১১ ডিসেম্বর মুক্ত হয় টাঙ্গাইল জেলা।

দিবসটি উপলক্ষে দীর্ঘদিন পর ঐতিহাসিক ‘কাদেরিয়া বাহিনী’র উদ্যোগে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- এদিন ভোরে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে ৩টা পর্যন্ত গ্রামবাংলার ঐতিহ্য সঙযাত্রা ও লাঠিখেলা, বিকাল সাড়ে ৩টায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন কাদেরিয়া বাহিনীর সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। প্রধান অতিথি থাকবেন মহান মুক্তিযুদ্ধে টাঙ্গাইলের কমান্ডার ইন চিফ আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। এছাড়া বাছাইকৃত ১০জন বীরমুক্তিযোদ্ধাসহ দেশ-বিদেশের বরেণ্য ব্যক্তিরা আলোচনায় অংশ নিবেন।    



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ