টাঙ্গাইলের বাসাইলে ভুল চিকিৎসায় এক খামারির ১৭ হাজার মুরগির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসকরা এর দায়িত্ব না নিলেও স্থানীয়রা তাদের বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড চত্বরে প্রান্তিক খামারি ও গ্রামবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ক্ষতিগ্রস্ত খামারি আলমগীর হোসেন, স্থানীয় বদিউজ্জামান বিদ্যুত, মাছুম রানা, আব্দুল খালেক প্রমুখ।
জানা যায়, ঈদকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার হাবলা বিলপাড়া এলাকার আলমগীর হোসেন গতমাসে তার খামারে ৫৫ হাজার ব্রয়লার মুরগীর বাচ্চা তোলেন। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি মুরগি দ্রুত বড় করার জন্য বেসরকারি কোম্পানির ভ্যাটেরিনারি চিকিৎসক ডা. অদ্বৈত বর্মন ও ডা. মেহেদীর পরামর্শ নেন। তারা দুইজন যথাক্রমে রেটেনা ফার্মা লিমিটেড ও অপসোনিন ফার্মা লিমিটেডের বাসাইল-সখীপুর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক। তারা দুইজন উপস্থিত থেকে পরামর্শ করে প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। প্রেসক্রিপশন লেখার দায়িত্ব পালন করেন ডা. মেহেদী হাসান। ওই রাতে তাদের দেওয়া ওষুধ খাওয়ানোর পর একের পর এক মুরগি মরতে থাকে। এতে হতবিহ্বল খামারী আলমগীর হোসেন ওই চিকিৎসকদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। ওই চিকিৎসকরা খামারে আসার কথা বললেও তারা আর খামারে আসেননি। ২৩ তারিখ পর্যন্ত তার খামারে ১৭ হাজার মুরগীর মৃত্যু ঘটে।
খামারের কর্মচারি হাসান আলী ও আলাউদ্দিন জানান, রাতে ওষুধ খাওয়ানোর পর গভীর রাতে মুরগীগুলো ঝিমাতে শুরু করে। কিছুক্ষণপর একের পর এক মরতে থাকে। মরা মুরগী বস্তায় তুলে পাশে ঝিনাই নদীর ধারে পুতে রেখেছি। কষ্ট করে গড়ে তোলা খামারের মুরগীর সাথে সাথে আমাদের স্বপ্নের মুত্যু আমাদেরকে নির্বাক করে ফেলেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত খামারি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে আমার এই খামারে ১৭ হাজার ব্রাহন কক মুরগির রাচ্চা উঠানো হয়েছে। মুরগির গ্রোথ বাড়ানোর জন্য রেনেটা কোম্পানির ডাক্তারকে ডেকেছিলাম। তারা এসে প্রেসক্রিপশন করে দিয়েছে। মুগরি বড় করার ওষুধের বদলে তারা আমাকে দিয়েছে চারটি এন্টিবায়োটিক ওষুধ। পরে রাত নয়টার দিকে ওষুধ খাওয়ানোর পর শেষ রাতের দিকে মুরগি মারা যাওয়া শুরু করে। প্রথমদিনেই প্রায় ১২ হাজার মুগরি মারা যায়। এ পর্যন্ত খামারে থাকা ১৭ হাজার মুরগি মারা গেছে। মুুরগি মারা যাওয়া শুরু করলে রেনেটা কোম্পানির ডাক্তার ও সেলসম্যানকে জানানো হয়। মুরগির মৃত্যুর খবর শুনেও তারা দেখতে আসেনি। তারা এসে ওষুধ পরিবর্তন করে দিতে পারতেন। বারবার বলার পরও আসেনি। পরে রেনেটা কোম্পানির ডাক্তারর ও সেলসম্যানসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। বিষয়টি উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তাকেও জানানো হয়েছে। পরে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হিরা মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
প্রেসক্রিপশন করা অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড (বাসাইল-সখিপুর) এর দাঁয়িত্বে থাকা ডা. মেহেদী হাসান মুুঠোফোনে বলেন, ‘রেনেটা কোম্পানির সিনিয়র ডাক্তারের পরামর্শে প্রেসক্রিপশন করা হয়েছে।
রেনেটা ফার্মা লিমিটেড (বাসাইল-সখিপুর) এর দাঁয়িত্বে থাকা ডা. অদ্বৈত বর্মন প্রেসক্রিপশনের দায় না নিলেও রোগ বুঁঝে প্রেসক্রিপশন করা হয়েছে দাবি করে মুুঠোফোনে বলেন, ‘একেকটা রোগের ক্ষেত্রে একেকটা মেডিসিন সাজেস্ট করি। তার মুরগির গ্রোথ কেন আসতেছে না, সেই কারণটি তো আগে বের করতে হবে। কারণটা বের করে সমাধান করলেই তো গ্রোথ আসবে, আমরা তাই করেছি। হেনেন্তা করার উদ্দেশ্যে খামারী আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে।
জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা হেলালউদ্দীন বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কি কারণে মুরগি মারা গেছে, এটা ময়নাতদন্ত করলে বের হয়ে আসবে।
বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে মুরগি মারা যাওয়ার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।