টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সটি গত ১২ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। চালককে অন্য দপ্তরে প্রেষণে বদলি করায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি তালাবদ্ধ হয়ে অলস পড়ে আছে। দরিদ্র রোগীরা কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ব্যবহার করছেন। এতে রোগীর স্বজনেরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে সাতজন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলে পাঠাতে হয়। এতদিন একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স ও একজন চালক দিয়েই কোনোমতে সেবাটি চালু ছিল। তবে গত ২৬ এপ্রিল চালক দেবাশিস বিশ্বাসকে টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন কার্যালয়ে প্রেষণে নিয়ে যাওয়ায় জরুরি এ সেবা থেকে উপজেলাবাসী পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছেন। বিপাকে পড়েছেন অসহায় ও দরিদ্র রোগীরা।
ভুক্তভোগী এক রোগীর স্ত্রী নাজনীন আক্তার জানান, আমার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে দ্রুত তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যাই। চিকিৎসকরা তাঁকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের চালক না থাকায় চড়া দামে বেসরকারি গাড়ি ভাড়া করে ঢাকা নিতে হয়েছে।
এদিকে ১২ দিন ধরে অ্যাম্বুলেন্স সেবা না পেয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত চালক নিয়োগ বা চালককে কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেহানা পারভীন বলেন, আমাদের অ্যাম্বুলেন্স চালককে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে সাময়িকভাবে প্রেষণে নেওয় হয়েছে। ফলে অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাঁকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।