ঢাকা | 10 May 2026

রোগমুক্ত চারা উৎপাদনে নতুন দিগন্ত ধনবাড়ীতে নির্মিত হচ্ছে টিস্যু কালচার ল্যাব

স্টাফ রিপোর্টার, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :May 9, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবির ক্যাপশন:
ad728

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাব। এ ল্যাবকে ঘিরে দেশের উত্তর-মধ্য অঞ্চলে কৃষিতে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। আনারসের নতুন জাত ফিলিফাইনের এমডি-২, জি-নাইন (G-9) কলা এবং সবজিসহ বিভিন্ন ফল ও ফসলের রোগমুক্ত চারা উৎপাদনের মাধ্যমে নতুন এক যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে এই সেন্টারটি।

উদ্যানতত্ত্ববিদদের মতে, বাংলাদেশের কৃষি এখন আর শুধু সনাতন পদ্ধতিতে আটকে নেই, বরং জীবপ্রযুক্তি ও আধুনিক বিজ্ঞানের এক অভূতপূর্ব অভিযাত্রায় প্রবেশ করেছে। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টার ধীরে ধীরে এই কৃষি-বিপ্লবের একটি নতুন প্রতীক হয়ে উঠছে।

প্রকল্পের নাম: সরকারের ‘টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্প’।


মেয়াদকাল: ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে শুরু হয়ে ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত চলবে।

উৎপাদন শুরু: ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ল্যাবটির উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

অন্য কেন্দ্র: দেশব্যাপী বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আওতায় ধনবাড়ী ছাড়াও সাভারের রাজালাখ, বান্দরবানের বালাঘাটা, কুমিল্লা এবং ভোলার চরফ্যাশনেও আধুনিক ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ল্যাবের সম্ভাব্য সুবিধা ও প্রভাব: ধনবাড়ী সেন্টারটি ভৌগোলিক ও কৃষি সম্ভাবনার দিক থেকে বিশেষ কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে এবং ইতোমধ্যে দক্ষ টিস্যু কালচারিস্ট নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।

এমডি-২ আনারসের সম্প্রসারণ: মধুপুরের ঐতিহ্যবাহী আনারসকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়ন করার জন্য এ ল্যাবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এমডি-২ জাতের আনারসের চারা উৎপাদন করা হবে। এর মিষ্টতা, আকর্ষণীয় সোনালি রং, দীর্ঘ সংরক্ষণক্ষমতা ও রপ্তানিযোগ্য মানের কারণে মধুপুরের আনারস শক্তিশালী ব্র্যান্ডে পরিণত হতে পারে।

ফ্লোরিকালচার জোন: জারবেড়া ও অর্কিড চাষের মাধ্যমে ফ্লোরিকালচার জোন’ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

রোগমুক্ত চারা ও বহুমুখী কৃষি: উন্নত জাতের পেঁপে, বিভিন্ন সবজি ও বহুমুখী কৃষির সম্প্রসারণ এবং রোগজীবাণুমুক্ত চারা নিশ্চিত করা হবে।

ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ কৃষিবিদ রাসেল পারভেজ তমাল বলেন, কৃষির আধুনিকায়নের এই যুগে রোগমুক্ত উন্নত জাতের চারা সরবরাহই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ধনবাড়ীর টিস্যু কালচার ল্যাব এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিনির্ভর চারা উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে কৃষকের উৎপাদনশীলতা বাড়বে, প্রতারণা কমবে এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।

তিনি আরো বলেন, ল্যাবটির উৎপাদন শুরু হলে দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য জাতের ফসল উৎপাদন হবে, যার সুফল মাঠপর্যায়ের চাষিরা পাবেন। এতে শুধু কৃষকের উপকারই হবে না, বরং দেশীয় সীমা পেরিয়ে বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগও সৃষ্টি হবে।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ