ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় টানা বর্ষণে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে সময়মতো ধান কাটতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। একদিকে শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে অতিরিক্ত মজুরি গুনেও শ্রমিক না পাওয়া এবং বাজারে নতুন ধানের কম দামে উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের সোয়াইল ও পানিভান্ডা, মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নের সাতেঙ্গা এবং ধীতপুর ইউনিয়নের রান্দিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামের নিচু জমিগুলো কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে। অনেক জমিতে কোমরসমান পানি জমে থাকায় পাকা ধান কাটতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কৃষক ও শ্রমিকদের।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, বোরো ধান কাটার মৌসুমে প্রতি বছর শ্রমিকের সংকট দেখা দিলেও এবার বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। স্থানীয়ভাবে শ্রমিক না পাওয়ায় কেউ কেউ কুড়িগ্রামসহ দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে শ্রমিক এনে ধান কাটাচ্ছেন। পানিতে ডুবে থাকা জমির প্রতি কাঠা ধান কাটতে এখন ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে ভালুকার ১১টি ইউনিয়নে ১৮ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও ভালো হয়েছে। তবে মৌসুমের শেষ দিকে টানা বর্ষণে নিচু এলাকার ধানক্ষেত প্লাবিত হওয়ায় কৃষকেরা নতুন করে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
কৃষকদের তথ্যমতে, প্রতি কাঠা জমিতে জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার, সেচ, ধান কাটা ও মাড়াই মিলিয়ে মোট খরচ পড়ছে প্রায় ৪ হাজার টাকা। কিন্তু বাজারে নতুন ধানের দাম কম থাকায় সেই খরচ ওঠানো নিয়েই শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মেদুয়ারী ইউনিয়নের সোয়াইল গ্রামের কৃষক হুমায়ুন কবির মাস্টার বলেন, ‘কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে হঠাৎ করে সব ধান পানির নিচে চলে গেছে। শ্রমিকেরও সংকট। কুড়িগ্রাম থেকে শ্রমিক এনে ধান কাটানো হচ্ছে। কিছু ধান কেটে টেনে ওপরে তোলা হলেও বৃষ্টির কারণে সেগুলোও পচে যাচ্ছে। এতে আমরা খুব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’
একই গ্রামের কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘শ্রমিক সংকটে প্রায় দ্বিগুণ টাকা দিয়ে ধান কাটাতে হচ্ছে। প্রতি কাঠায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। তবু সারাদিনে আধা কাঠার বেশি কাটতে পারে না, কারণ জমিতে অনেক পানি।
কুড়িগ্রাম থেকে ধান কাটতে আসা শ্রমিক ফরিদুল ইসলাম ফরিদ বলেন, ‘সারাদিন ১ হাজার ২০০ টাকা হাজিরায় ধান কাটছি। পানি বেশি থাকায় সারাদিনে আধা কাঠা ধানও কাটা যায় না। সারাদিন পানির নিচে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা, কাশি ও নানা অসুখ হয়।’
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, পানি দ্রুত না নামলে আরও বেশি জমির ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কাটা ধান শুকাতে না পারলেও মান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে বাজারে দাম আরও কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
কৃষকেরা বলেন, এ বছর বোরো ধানের ফলন ভালো হলেও শেষ সময়ে টানা বৃষ্টি, শ্রমিক সংকট এবং ধানের কম দামে তাঁরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। দ্রুত পানি নিষ্কাশন, ধান কাটায় সহায়তা এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।