ঢাকা | 17 April 2026

টাঙ্গাইলে কৃষকদের মাঝে আনন্দের বন্যা ॥ ১৪৫৩ জনকে কৃষক কার্ড তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Apr 13, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবির ক্যাপশন:
ad728
 বিএনপির নির্বাচনী ইসতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কৃষক কার্ড প্রদান শুরু হবে টাঙ্গাইল থেকে। আগামী ১লা বৈশাখ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঐতিহাসিক এই কর্মসুচি ঘিরে টাঙ্গাইল শহরে সাজসাজ রব বিরাজ করছে। তার আগমন ঘিরে টাঙ্গাইলসহ আশপাশের জেলার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অপরদিকে কৃষকদের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা। টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের মানুষ সম্পূর্ণ কৃষি নির্ভর। এই ইউনিয়নের উৎপাদিত শস্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য শস্য হচ্ছে ধান। এর পরেই পাটের স্থান। তারপর যেসব কৃষিজাত দ্রব্যের উৎপাদন হয়ে থাকে সেগুলো হলো গম, মাসকলাই, মসুর, পেয়াজ, আলু, সরিষা, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, ধনে, আদা ইত্যাদি মসলা জাতীয় শস্য, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, উচ্ছে, করলা, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, ধুন্দুল, শিম, বরবটি, কাকরল, ঢেড়শ, গোল আলু, বেগুন, টমেটো ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি সবজি প্রচুর পরিমানে উৎপাদিত হয়ে থাকে। এছাড়া আম, জাম,কাঁঠাল, পেয়ারা, নারিকেল, সুপারি, জাম্বুরা, লেবু, তেঁতুল, কামরাঙ্গা, জলপাই, বেল, ডালিম, আতা ইত্যাদি উৎপাদিত হয় ঘারিন্দা ইউনিয়নে। সরকার কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষিজীবীদের জীবন মান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ধরণের কর্মসুচি বাস্তবায়ন করবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের পরিচিতি, আড়াই হাজার টাকা, ভর্তুকি, ঋণ, বীজ ও সারসহ ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন কৃষকরা। বর্তমান সরকারের এই কার্যক্রম টাঙ্গাইল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। সর্বপ্রথম টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের সুরুজ পূর্বপাড়া ব্লকের এক হাজার ৪৫৩জন কৃষককে এই কার্ড প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যেই তাদের তালিকা সম্পন্ন করা হয়েছে। তালিকাভূক্ত এই কৃষকদের মধ্যে কিছু সংখ্যক কৃষকের হাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক কার্ড তুলে দেবেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘারিন্দা ইউনিয়নের ২৩টি গ্রামে ৩১ হাজার ৭৪৯জন বাসিন্দা রয়েছেন। এঁদের মধ্যে ১৫ হাজার ৩৮৭জন পুরুষ ও ১৬ হাজার ৩৬২জন নারী রয়েছেন। এদের অধিকাংশই কৃষি নির্ভর। যারা অতীতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পেরেছেন তারা কৃষি বিভাগসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পেয়েছেন। বাকিরা বঞ্চিত হয়েছেন। এবার সর্বাগ্রে প্রকৃত কৃষক বাছাই করে তাদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ঘারিন্দা ইউনিয়নের সুরুজ পূর্বপাড়া গ্রামের কৃষাণী জুলেখা বেগম। তার বাড়ির চারপাশে বেগুন, ডাটা, মিষ্টি আলু, লাউ, চালকুমড়ার গাছে সবুজায়িত হয়ে আছে। তিনি বাড়ি আঙ্গিনার সবজি বাগান পরিচর্যা করতে করতে বলেন, আমি কোনদিন কৃষি বিভাগের সুবিধা পাইনি। এবার আমারে কৃষক কার্ড দিব। এই কার্ড দিয়া বলে মেলা সুযোগ সুবিধা পামু। প্রধানমন্ত্রী আমগরে এই কার্ড তুইলা দিবো। ভাবতেই আনন্দ লাগতাছে। একই ইউনিয়নের বরড়িয়া গ্রামের মো. আবু কায়সার একজন মাছ চাষি। তিনি তাঁর নিজের এবং নিকটজনদের ৩টি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে থাকেন। ১২-১৩ বছর হলো মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এবার তিনি কৃষক কার্ড পাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি প্রান্তিক চাষি থেকে শুরু করে প্রকৃত কৃষকদের মাঝে কার্ড বিতরণ করা হলে অবশ্যই সকলেরই কল্যাণ হবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রতিটি কৃষকের ঘরে ঘরে সেবা পৌঁছে দেওয়ার এই ব্যতিক্রমি উদ্যোগ অবশ্যই কৃষকদের লাভবান করবে। ঘারিন্দা ইউনিয়নের জুলেখা আবু কায়সারদের মতো শত শত কৃষকের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। তাদের ধারণা কৃষি কার্ডের পুরোপুরি সুযোগ সুবিধা পেলে উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকরা লাভবান হবে। টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ায় জেলার প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর এই মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। টাঙ্গাইলবাসী প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনের প্রস্তুতি দেখতে এসে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে কৃষকদের উন্নয়নে ‘কৃষক কার্ড’ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পহেলা বৈশাখের মতো একটি দিনে মাওলানা ভাসানীর স্মৃতিধন্য টাঙ্গাইলের মাটিতে এই কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়া জেলাবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমরা মাঠ পরিদর্শন করেছি এবং নবান্নের ঐতিহ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি সুশৃঙ্খল অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। 



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ