খন্দকার শফিকুর রহমান
পঁচিশ বছর। রজতজয়ন্তী। দৈনিক প্রগতির আলো’র জন্য একটি আনন্দের দিন। একএক করে পঁচিশ বছর চলে গেল। আনন্দ- বেদনা, সুখ- দু:খ, হাসি- কান্না’র মধ্য দিয়েই কেটে গেল পঁচিশটি বছর। একটি পত্রিকার এতগুলো দিন কিভাবে যে চলে গেল পাঠক কখনোই তা অনুধাবন করতে পারবেন না। কিভাবে যে একেকটি দিন পাড়ি দিতে হয় তা জানেন শুধু সম্পাদক। পাঠক পত্রিকা পড়ে বলবেন, ’কিছুই নেই পত্রিকাতে’। তারপরও আমাদের কাগজ বের করতে হয়। কারণ আমরা দায়িত্ব নিয়েছি নিয়মিত কাগজ বের করার। সেখান থেকে বের হওয়ার কোন পথ নেই।
স্থানীয় একটি দৈনিক। চার পৃষ্ঠার সাদা-কালো ছাপা একটি কাগজ। তারপরও অনেকের শ্রম ও ঘাম ঝরিয়ে এটি প্রকাশ করতে হয়। কারো কোন আর্থিক অনুদান ছাড়াই প্রতিদিন পত্রিকা প্রকাশিত হয়। বেশ কিছু সাংবাদিক, বিজ্ঞাপন, সার্কুলেশন, প্রেস বিভাগের কর্মীদের নিয়ে প্রতিদিন কাগজ বের করতে হচ্ছে। ছোট্ট একটি কাগজ বের করতে যে কষ্ট হয়, সে তুলনায় বড় কাগজের অবস্থা নাইবললাম।
যারা নিয়মিত কাগজ পড়েন তারা অনেকটা বুঝতে পারেন একটি কাগজ তৈরি হতে কত শ্রম দিতে হয়। যারা এসব কাগজের সংবাদের জন্য অপেক্ষায় থাকেন- তারাই উপলব্ধি করতে পারেন কতটুকু কঠিন একটি কাগজ বের করা।
একসময় কাগজ বের করা ছিল সৌখিন বিষয়। কিছু টাকা আছে আর আছে সুন্দর একটি মন। ব্যাস হয়ে গেল একটি কাগজ। সৃজনশীল মানসিকতার কিছু মানুষ একসাথে হয়ে কাজের শুরু। তারপর নিযমিত বের হতে শুরু করলো কাগজ। তবে এরমধ্যে বিজ্ঞাপন আর সার্কুলেশন আছে। নিজেদের পরিচিত কিছু ব্যবসায়ী আর শুভাকাঙ্খী আছেন, তারাই বিজ্ঞাপন দিয়ে পত্রিকাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। এসব বিজ্ঞাপনদাতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বেঁচে আছে এসব দৈনিক।
অনেকদিনের সাংবাদিকতার সুবাদে নানাধরণের অভিজ্ঞতা হয়েছে। ভালো-মন্দ বিভিন্ন। আজকাল সাংবাদিকতা বিষয়ক অনেক আলোচনা অনুষ্ঠান হয়। কিন্ত তাতে শুধু আলোচনা থাকে; সমালোচনা হয় না। এতো বেশি প্রশংসিত আলোচনা হয় যা বলার মতো নয়। একটি উদাহরণ দিলে অনেক কিছুই বুঝতে পারবেন। কিছুদিন আগে স্থানীয় একটি দৈনিকের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান হয়। পুরো অনুষ্ঠান জুড়েই শুধু প্রশংসা। চার পৃষ্ঠার বিশেষ সংখ্যা যে পত্রিকা বের হয়েছে তার লিড নিউজের ক্রেডিট লাইন ’ টাঙ্গাইল প্রতিনিধি’ দিয়ে শুরু। স্থানীয় দৈনিকের এই ক্রেডিট লাইন কি করে হয়? সম্পাদকীয় পাতায় সম্পাদকের ছবিসহ সম্পাদকীয়। আমরা দেখেছি সম্পদকীয় পাতা ছাড়া অন্য পাতায় ছবিসহ বিশেষ সম্পাদকীয়। কিন্তু এটা কি করে হলো বুঝতে পারছিনা। এভাবেই চলছে আজকের দৈনিকগুলো।
তবে পাঠকের আস্থা নিয়ে চলছে দৈনিক প্রগতির আলো। রজতজয়ন্তী’র এই দিনে আশা করি আরো ভালো কিছু নিয়ে আগামী দিনে পাঠকের সামনে আসবে। শুভ কামনা... সবার জন্য।