ময়মনসিংহ ব্যুরো
উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চিকিৎসকদের বৃহৎ পেশাজীবী সমাবেশ সেন্ট্রাল বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (BMANA Central)-এর বার্ষিক সম্মেলন-২০২৬ শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটির ট্রপিকানা রিসোর্টে। ১ আগস্ট শুরু হওয়া এ সম্মেলনে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চিকিৎসক, গবেষক ও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা অংশ নিচ্ছেন।
সেন্ট্রাল বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার সভাপতি ডা. মজিবুর রহমান মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ও ইউএস ককাসের কো-চেয়ারম্যান ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, এমপি। তাঁর অংশগ্রহণ সম্মেলনটিকে শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের পেশাগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পরিসরেই সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসকদের মেধা, অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক সংযোগ দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় কাজে লাগানোর সম্ভাবনাকেও সামনে এনেছে।
সম্মেলনে ডা. লিটন এমপি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ককে স্বাস্থ্য, চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে আরও কার্যকর পর্যায়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, উত্তর আমেরিকায় কর্মরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক মানের পেশাগত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সম্পদ। পরিকল্পিতভাবে এই দক্ষ জনশক্তিকে দেশের চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে দেশের স্বাস্থ্য খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।
বিশেষ করে চিকিৎসা গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি, টেলিমেডিসিন, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, বিশেষায়িত সেবা এবং তরুণ চিকিৎসকদের মেন্টরশিপে বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসকদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে সম্মেলনে মত উঠে আসে। এর মাধ্যমে দুই দেশের চিকিৎসা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগও আরও বিস্তৃত হতে পারে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক অগ্রগতি, আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা, তরুণ চিকিৎসকদের মেন্টরশিপ এবং স্বাস্থ্যসেবায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা এবং উত্তর আমেরিকায় প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা দেশের চিকিৎসা খাতে কাজে লাগানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত উন্নয়ন, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বিনিময় এবং সামাজিক-মানবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রেখে আসছে। BMANA-এর সম্মেলনগুলোতে বৈজ্ঞানিক অধিবেশন, পেশাগত উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক আয়োজনের সমন্বয় দেখা যায়। সংগঠনটির পূর্ববর্তী জাতীয় সম্মেলনগুলোর নথিতেও বৈজ্ঞানিক, সামাজিক ও দাতব্য কার্যক্রমকে সংগঠনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এবারের সম্মেলনেও থাকছে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক অধিবেশন, সিএমই (Continuing Medical Education) কার্যক্রম, পেশাগত জ্ঞান বিনিময়, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। এসব কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে চিকিৎসকদের আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসক সমাজের পারস্পরিক যোগাযোগ ও ঐক্য জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উত্তর আমেরিকায় প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি চিকিৎসকদের বিশাল পেশাগত নেটওয়ার্ককে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা গেলে তা হতে পারে জ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। বিশেষ করে চিকিৎসা গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন, বিশেষায়িত চিকিৎসা, জনস্বাস্থ্য এবং মেডিকেল শিক্ষায় যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ উপকৃত হতে পারে।
অন্যদিকে, প্রবাসী চিকিৎসকদের সঙ্গে বাংলাদেশের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগাযোগ বাড়লে দেশের তরুণ চিকিৎসকদের জন্য আন্তর্জাতিক মেন্টরশিপ, গবেষণা সহযোগিতা ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক পরিসরে অর্জিত অভিজ্ঞতা দেশের স্বাস্থ্যনীতির আধুনিকায়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
আটলান্টিক সিটির এই সম্মেলন তাই শুধু প্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসকদের একটি বার্ষিক পেশাগত আয়োজন নয়—বাংলাদেশ ও উত্তর আমেরিকার চিকিৎসক সমাজের মধ্যে জ্ঞান, দক্ষতা, গবেষণা ও মানবিক সহযোগিতার সেতুবন্ধন আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবারের সম্মেলন থেকে উদ্ভূত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার উদ্যোগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার প্রসার এবং আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।