ঢাকা | 31 March 2026

খেলোয়াড়দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না

প্রগতির আলো ডেস্ক, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Mar 31, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গতকাল ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ছবি : পিএমও ছবির ক্যাপশন: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গতকাল ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ছবি : পিএমও
ad728
খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শতাধিক ক্রীড়াবিদকে বেতন কাঠামোর আওতায় এনেছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল তেজগাঁওয়ে নিজের কার্যালয়ে ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এদিন ১২৯ জন খেলোয়াড়ের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন তিনি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারীদের দেয়া হয় বিশেষ সম্মাননা। এ সময় তিনি খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা খেলোয়াড়ি জীবনে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হন কিংবা রাজনৈতিক দলের সদস্য না হন।


খেলোয়াড়দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, ‘খেলোয়াড় বন্ধুরা, আপনাদের সবার প্রতি আমার একান্ত অনুরোধ—পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন এবং হবেন না। বরং ক্রীড়ানৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিনিধি হয়ে উঠবেন, দেশের জন্য গৌরব ও সম্মান বয়ে আনবেন।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড স্বনির্ভর হওয়ায় ক্রিকেটাররা এ তালিকার বাইরে থাকবেন। তবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, আগামী এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে ৫০০ জন খেলোয়াড়কে বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হবে।

অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আর্চারি, বক্সিং, জিমন্যাস্টিকস, ওয়েটলিফটিং, সাঁতার, প্যারা সুইমিং, প্যারা অ্যাথলেটিকস, হুইলচেয়ার বাস্কেটবলসহ নানা খেলায় বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা ভালো করছে। শুধু ক্রিকেট বা ফুটবল নয়, এ খেলাগুলোকেও সামনে এগিয়ে নিতে চায় সরকার।’

ক্রীড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন বা ব্যায়ামের অংশ নয়; বরং আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিশ্বে ক্রীড়া এখন পেশা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অ্যাকাউন্ট্যান্সি, ইঞ্জিনিয়ারিং বা লিগ্যাল প্রফেশন যেমন পেশা, ঠিক একইভাবে স্পোর্টসও একটি পেশা। পৃথিবী যখন এভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, নিশ্চয়ই বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকতে পারে না; আমরা ইনশা আল্লাহ পিছিয়ে থাকব না।’

শিক্ষা কারিকুলামে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের স্কুলে যেমন অংক, ইংরেজি, ভূগোল ও ইতিহাস আবশ্যিক হিসেবে পড়তে হয়, আমরা চাচ্ছি, শিশু যে খেলাটিই পছন্দ করুক, সেটি তাকে খেলতে হবে। সেটাতে তাকে দক্ষ হতে হবে, নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। অর্থাৎ ইতিহাস, ভূগোল ও বিজ্ঞানের পাশাপাশি আমরা খেলাধুলাকেও আবশ্যিক করব।’

প্রধানমন্ত্রী তরুণ খেলোয়াড়দের উদ্দেশে আইনস্টাইনের একটি কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘যে মানুষটি কখনো পরাজিত হয়নি, সে আসলে কিছুই করেনি। তার মানে সে কোনো উদ্যোগই গ্রহণ করেনি, চেষ্টাই করেনি। আপনাকে জয়ী হতে হলে কিছু একটা করতে হবে।’

সম্প্রতি সাফ নারী ফুটসালে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রথম শিরোপা জয়ের কথা উল্লেখ করে সেই চ্যাম্পিয়নদের আবারো অভিনন্দন জানান তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণই দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে সমৃদ্ধ করার প্রকৃত পথ। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে যে মেধা আছে তা সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে বিকশিত করতে পারলে আমরা বিশ্ব দরবারে আরো অনেক সম্মাননা বয়ে আনতে পারব।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এ অনুষ্ঠানের পুরো পরিকল্পনাই অত্যন্ত চমৎকার এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পর্যায়ে অত্যন্ত উচ্চমানের একজনকে আজকে ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন।’ যারা মাঠে যান তারা বোঝেন যে মাঠ কত প্রিয় হতে পারে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রচুর সম্ভাবনা আছে এবং আমরা যদি তাদের ঠিকমতো লালন-পালন করতে পারি, তবে আরো সাফল্য অর্জন সম্ভব।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন একেবারে স্কুল পর্যায় থেকে ট্যালেন্ট হান্ট করে খেলোয়াড়দের তুলে নিয়ে আসার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তার এ উদ্যোগ দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নেয়ার একমাত্র প্রকৃত পথ।’

এ সময় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা প্রদানের কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোয় ক্রীড়া ক্ষেত্রে একের পর এক সাফল্য অর্জিত হবে।’

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন প্রমুখ।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ