ঢাকা | 01 July 2026

টাঙ্গাইলে হত্যার বিচার চাওয়া ব্যাক্তিই হত্যাকারী মসজিদের মোয়াজ্জিনসহ গ্রেপ্তার দুই

স্টাফ রিপোর্টার, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Jul 1, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবির ক্যাপশন:
ad728
 টাঙ্গাইলে গৃহবধূ নাজমা আলমকে হত্যার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ রহস্য উদঘাটন করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ মসজিদের মোয়াজ্জিনসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মসজিদের মোয়াজ্জেম দেলদুয়ার উপজেলার মৃত মোতালেব সরকারের ছেলে মোশারফ হোসেন (৪২) ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকার (৪৫)। এসময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং ঘটনার আলামত উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.এস.এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, নাজমা আলম মরদেহ উদ্ধারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃত মোশাররফ হোসেন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছিলেন। এই মোশারফ এর সাথে নাজমা আলমের পরিবারের সাথে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে যোগাযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মোশারফ হোসেন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন সময়ে নাজমা আলম এর কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ঋণ করে এবং এনজিওর কাছ থেকে ঋণ করে এনে ওই টাকা পরিশোধ করেছেন। তিনি পুনরায় টাকা চাইলে নাজমা আলম টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে মোশারফ হোসেন পাশের ঘর থেকে হাতুড়ি এনে তার মাথায় আঘাত করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.এস.এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সোর্সের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি। হত্যাকাণ্ডের সময় গলার স্বর্ণের চেইন ও হাতের বালা নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় হত্যাকারী মোশারফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঋণে জর্জরিত মোশারফ হোসেন নাজমার আছে টাকা ধার চাইতে গিয়েছিলেন। ধার দিতে অস্বীকার করায় ক্ষুব্দ হয়ে মোশারফ নাজমার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। পরে নাজমার হাতে ও গলায় থাকা স্বর্ণালঙ্কার নেয়ার চেষ্টা করলে নাজমা বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় মোশারফ নাজমাকে পুনরায় হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে এবং সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে। পরবর্তীতে মোশারফ স্বর্ণসহ হাতুড়ি ও সিসি ক্যামেরার ডিভিডি সাথে করে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার দুপুরে আসামীদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়। উল্লেখ্য, গত রোববার সকালে টাঙ্গাইল পৌরসভা বিশ্বাসবেতকা এলাকায় গৃহবধূ নাজমা আলমকে নিজ বাড়িতে হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ