টাঙ্গাইল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. আবজাউল আলমের বহিষ্কার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাসুদ রানা নামে হয়রানির শিকার এক ব্যক্তি। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে সখীপু্র প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মায়ের নামের বানানে ব্যাকরণগত সমস্যা দেখিয়ে হয়রানির শিকার জুনাইদ হাসানও উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ৩০ জুন জুনাইদ হাসান পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আবজাউল আলমের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।
ঘটনার বর্ণনা ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন বেলা ৩টার দিকে সখীপুর পৌর শহরের বাসিন্দা জুনাইদ হাসান নিজের কাগজপত্র নিয়ে টাঙ্গাইল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যান। এ সময় ওই অফিসের সহকারী পরিচালক আবজাউল আলম আবেদনকারী জুনাইদ হাসানের মায়ের নামের বানান ‘ব্যাকরণ সম্মত’ নয় দাবি করে কাগজপত্র গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে এ নিয়ে তাদের তর্ক-বিতর্কের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা গেছে, জুনাইদ হাসান তাঁর পাসপোর্ট আবেদনের কাগজপত্র জমা দিতে গেলে আবজাউল আলম তা নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। ভিডিওতে আবজাউলের দাবি— জুনাইদের মায়ের নাম বাংলায় ‘জহুরা’ হলেও ইংরেজিতে লেখা ‘Johora’। বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী হ্রস্ব-উকারের প্রতিবর্ণী হিসেবে ইংরেজিতে ‘U’ লিখতে হবে। বানান ঠিক না করলে তিনি আবেদন জমা নেবেন না।
এ সময় জুনাইদ হাসান দাবি করেন, তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সব নথিপত্রে ওই বানানই ব্যবহার করা হয়েছে। নিজের নামের বানান মানুষ নিজের পছন্দমতো লিখতে পারেন। কিন্তু ওই কর্মকর্তা নিজের দাবিতে অনড় থেকে জুনাইদের আবেদন ফিরিয়ে দেন। পরে ওইদিনই জুনাইদ টাঙ্গাইল সদর থানায় আবজাউলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। এদিকে তাদের তর্কাতর্কির ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়। তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন পাসপোর্ট অফিসের ওই কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টাঙ্গাইল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আবজাউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা ভিডিওটির খণ্ডিত অংশ আপলোড করেছে। আবেদনকারীর মায়ের বানানের পার্থক্য দেখা দিলে আমাদের এক কর্মকর্তা তাঁকে শিক্ষাসনদ আনতে বলেন। পরে তিনি তৃতীয় এক ব্যক্তিকে নিয়ে অফিসে এসে তাঁর ফাইলে জহুরা কেন লেখা হয়েছে এই প্রসঙ্গ আনেন। ভাবমূর্তি নষ্ট করতে তৃতীয় ব্যক্তি গোপনে এটি ভিডিও করে ছড়িয়ে দিয়েছেন। পরে গ্রাহক যেভাবে চাচ্ছেন সেভাবেই করে নিতে কাগজপত্র জমা দিতে বলা হলেও তিনি তা না করে থানায় অভিযোগ করেছেন।
আজ শনিবার সখীপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভিডিও ধারণকারী মাসুদ রানা ও অভিযোগকারী জুনাইদ হাসান বলেন, পাসপোর্ট অফিসে দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। ওই দপ্তরের অসৎ ব্যক্তিদের আইনের মাধ্যমে দ্রুত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। আবজাউল আলম নামের ওই কর্মকর্তা আগেও নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, আমরা অবিলম্বে ওই অসৎ কর্মকর্তার বহিষ্কার দাবি করছি।