টাঙ্গাইলের সখীপুরে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত দেড় মাসে উপজেলায় অন্তত ১১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো (রেফার্ড) হয়েছে। আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আজ সোমবারও জ্বরের উপসর্গ নিয়ে বিপুল সংখ্যক রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রক্তের নমুনা দিতে দেখা গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, সখীপুরে চলতি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে গত এক সপ্তাহেই নতুন করে চারজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে দুইজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে উপজেলার বেসরকারি ক্লিনিকের তথ্য একত্র করলে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে বলে ধারণা করেছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ আসমা বেগম জানান, এ বছর প্রথম ডেঙ্গু সনাক্ত হয় জুলাই মাসের ২০ তারিখে। ওই মাসে তিনজনের শরীরে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এরপর ৩১ আগস্ট মাসে পাঁচজন এবং চলতি সেপ্টেম্বর মাসের পাঁচ দিনেই (রোববার পর্যন্ত) আরও তিনজনের ডেঙ্গু সনাক্ত হয়েছে। পরিসংখ্যানবিদ আসমা বেগম আরও বলেন, গত বছর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসেবে প্রায় ১০৮ জনের ডেঙ্গু সনাক্ত হয়েছিল।
উপজেলার প্রতিমা বংকী গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ সেলিম রেজা বলেন, দুইদিন ধরে আমার স্ত্রীর জ্বর ছিল। স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে পরীক্ষার পর জানতে পারি সে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। বাড়িতে রেখেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার জমে থাকা পানি ও অসচেতনতার কারণে মশার বংশবৃদ্ধি ঘটছে, যার ফলে বাড়ছে আক্রান্তের হার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রত মশক নিধন অভিযান চালানো এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেহানা পারভীন বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রোগীর অবস্থা খুব বেশি জটিল না হলে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখেই চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা ওভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।
মানুষকে সাধারণ জ্বরের পাশাপাশি ভিন্ন কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন তিনি। এ ছাড়া ডেঙ্গুর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখারও অনুরোধ জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।