ঢাকা | 20 September 2026

গৌরীপুরে ৯ দফা দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ কর্মবিরতী ঘোষণা

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Sep 20, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবির ক্যাপশন:
ad728
শতভাগ বেতন, ২হাজার টাকা বেতনবৃদ্ধি, অভারটাইমের হার বৃদ্ধি, ঈদ বোনাস ৮০শতাংশ প্রদান, ন্যায্য মজুরিসহ ৯দফা দাবিতে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর/২০২৬) কলতাপাড়া ডেল্টা স্পিনার্স লিমিটেডের শ্রমিকরা ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় রাস্তার দু’পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্দ শ্রমিকরা এ সময় মিলের মূল ফটকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। 

খবর পেয়ে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ শ্রমিকদেরকে রাস্তা থেকে সরিয়ে মিল গেইটে নিয়ে যান এবং পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
 
এ দিকে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর/২৬) কলতাপাড়া ডেল্টা স্পিনার্স লিমিটেডের মূল ফটকে গিয়ে দেখা যায়, নিরাপত্তা কর্মীরা থাকলেও কোনো শ্রমিক নেই। একাধিক শ্রমিক জানান, শনিবার আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে যোগ দিবেন না।

তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে গ্যাস সংকটের অজুহাতে ৫০শতাংশ বেতন দেয়া চলবে না, শতভাগ বেতন দিতে হবে। প্রত্যেক শ্রমিকের ২হাজার টাকা করে বেতন বৃদ্ধি, আন্দোলনকারী শ্রমিকদের ছাটাই বন্ধ করতে হবে। 
ফিনিশিং বিভাগের এক শ্রমিক জানান, ২০১৬ সনের ২৪ জুলাই শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে প্রত্যেক বছর ৫% বেতনবৃদ্ধি মেনে নেয়, যার শতভাগ আজও কার্যকর হয়নি। তিনি আরো বলেন, আমাদের শ্রমিকদের মধ্যেও একটা দালালচক্র আছে, ওদের কারণে বারবার এ আন্দোলন হয়, অনেকের চাকুরী যায় তবে আইন অনুযায়ী শুধু বেতন পাইনা। এ মিলের আরেক শ্রমিক আব্দুর রশিদ (ছদ্মনাম) জানান, ২০২২ সনের ১০ সেপ্টেম্বর আন্দোলনের কারণেও অনেকের চাকুরি গেছে তবে বেতন বাড়েনি। 

আন্দোলনকারী শ্রমিক আয়েশা আক্তার (ছদ্মনাম) জানান, এ মিলে ১৪ বছর যাবত কাজ করছি। দেশের বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস শুধু নয়; আল্লাহকে ডাকার জন্য ২৭ রমজানের রাতেও ছুটি দেয় না। আর কিছু বলবো না, তাহলে আমারও চাকুরী থাকবো না। দুই সন্তান নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। ছুটির দিনে ডবল বেতন; সিঙ্গেলই (শ্রমআইন অনুযায়ী) দেয় না! 

ডেল্টা স্পিনার্সের রিং বিভাগের অপারেটর ফাতেমা আক্তার (ছদ্মনাম) জানান, ১৯ বছর যাবত চাকুরী করি। শ্রম আইন অনুযায়ী বেতন-ভাতা কিছুই পাই নাই। এমন অমানবিক ফ্যাক্টরী দেশের কোথাও নেই। তিনি আরো বলেন, অতিরিক্ত কাজের প্রাপ্য মজুরী দেয়া হয় না। এ ফ্যাক্টরী কাজ করতে করতে তিন সন্তানের মা হলাম। অথচ বেতন যা ছিলো তাই আছে। কথায় কথায় শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন করা হয়, প্রতিবাদ করলেই চাকুরী থাকে না। আবু ইউসুফ (ছদ্মনাম) জানায়, শ্রমিক অধিদপ্তরের লোকজন আসেন, বসদের নিকট থেকে তবারক খেতে, তারা কখনও আমাদের সঙ্গে কথা বলেন না। শ্রম আইন তাদের ফাইলের ভিতরে আছে, এ ফ্যাক্টরীতে বাস্তবায়ন নেই।

খবর পেয়ে মিলের মহাব্যবস্থাপক আবু আহাম্মদ শরীফ আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে কথা বলেন। এ সময় তিনি শনিবার পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করে কাজে ফিরে যেতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান। শ্রমিক সেই আহ্বান না মেনে দাবি পূরণে অনঢ় থাকেন। আন্দোলনরত শ্রমিক ও মিল কর্তৃপক্ষ আলোচনা শেষে শনিবার পর্যন্ত মিল বন্ধের ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা।

মিলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মিলের মহাব্যবস্থাপক আবু আহাম্মদ শরীফ। তিনি জানান, শনিবার মিলের পরিচালকগণ আসবেন, তারপর শ্রমিকদের সাথে আলোচনা হবে। 



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ