ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ষাঁড়ের লড়াইয়ে জুয়া খেলার সংবাদ প্রকাশের জের ধরে মোখলেছুর রহমান এক সাংবাদিককে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে কামাল হোসেন নামে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।
হুমকির ৭ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ফুঁসে উঠে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্যকে গ্রেফতারের দাবিতে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন সাংবাদিকরা।কামাল হোসেন গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। মোখলেছুর রহমান গৌরীপুর মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক পরিষদের সদস্য সচিব ও ফেসবুক পেজ গৌরীপুর প্রতিদিনের পরিচালক।জানা গেছে, গত ৩১ ডিসেম্বর বুধবার ভোরে উপজেলার মাওহা ও অচিন্তপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রাম তাতীরপা ষাঁড়ের লড়াইয়ে জুয়া খেলার আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে মোখলেছুর ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে ষাঁড়ের লড়াইয়ের জুয়া খেলার তথ্য সংগ্রহ করে নিজের ফেসবুক পেজে সংবাদ প্রকাশ করে। ওই সংবাদ প্রকাশের জের ধরে ওই দিন ইউপি সদস্য কামাল হোসেন সাংবাদিক মোখলেছুর রহমানকে মোবাইলে ফোনে হুমকি দেয়। প্রথম দিকে ভয়ে মোখলেছ ওই হুমকির ঘটনা চেপে গেলেও ৩ জানুয়ারি শনিবার ৭৭ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের হুমকির অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভাইরাল অডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা বিএনপি করি, অহন আমরা এইসব কাজ করবাম। আপনি পারলে সামনে আইয়া কিছু কইনযেন। আমার বাপের জমি বেইচ্যা জুয়া খেলবাম, যা মন চায় তা করবাম এইটার জন্য কৈফিয়ত দিওন লাগবো। আপনার নামে মামলা করবাম। আমরা প্রেসক্লাব, থানা ও স্থানীয় সবকিছু এ-টু-জেট ম্যানেজ করেই আমরা এসব কাজ করি’।রোববার বিকালে গৌরীপুর মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক পরিষদ পৌর শহরের বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি করে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য কামাল হোসেনকে গ্রেফতারের জন্য ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়।সাংবাদিক মোখলেছুর রহমান বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ৩১ ডিসেম্বর সারাদেশবাসী যখন শোকাহত তখন ষাঁড়ের লড়াইয়ের নামে জুয়া খেলার আয়োজন করা হয়। আমি ওই জুয়া খেলার সংবাদ প্রকাশ করায় আমাকে ইউপি কামাল হোসেন মোবাইলে হুমকি দিয়ে বলে আমরা বিএনপি করি এই ধরণের কাজ করবোই। আরেকবার নিউজ করলে আপনার খবর আছে। এই ঘটনার পর থেকে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।এই বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ বলেন, ইউপি সদস্য কামাল হোসেন বিএনপির কেউ নন। বিগত সময়ে তাকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখেছি। সাংবাদিককে হুমকির ঘটনায় নিন্দা জানানোর পাশাপাশি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।এই বিষয়ে ইউপি সদস্য কামাল হোসেন বলেন, ষাঁড়ের লড়াই অচিন্তপুর ইউনিয়নের পাচকাহনিয়া গ্রামে হয়। কিন্ত সাংবাদিক মোখলেছুর রহমান সংবাদ প্রকাশ করে ষাঁড়ের লড়াই হয়েছে মাওহা ইউনিয়নের তাতীরপয়া গ্রামে। যেহেতু আমাদের ইউনিয়নের নামে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছে তাই তাকে ফোন করেছিলাম। এক পর্যায়ে রাগে মুখের টানে মোখলেছ ভাই সহ থানা, প্রেসক্লাব নিয়ে কিছু উল্টাপাল্টা কথা বলে ফেলেছি। গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার বলেন, সাংবাদিককে হুমকির দেয়ার অডিওটি দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। আর থানা ম্যানেজ করে ষাঁড়ের লড়েইয়ে জুয়া খেলা হয় এই অভিযোগ সত্য নয়। ভোর সকালে ষাঁড়ের লড়াই হয়। আমরা খবর পেলেই জড়িতদের ধরতে পুলিশের টিম পাঠিয়ে দেই সেখানে