ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’-এর সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দলীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে আবেদন করেছে সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পেয়েছে তথ্য সংগ্রহকারী, সুপারভাইজার পদে উর্ত্তীণ না হয়েও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, ছাত্রলীগ নেতা বিজয়ী হওয়ায় ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ, দলীয় প্রভাবে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে নিয়োগ কমিটির সভাপতি ইউএনও আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, এসব অভিযোগ সত্য নয়। বিধিমোতাবেক লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ স্বচ্ছ পদ্ধতিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যেহেতু পরীক্ষা হয়েছে, সবাইকে পাশ করানো তো সম্ভব নয়। যারা মেধা তালিকা উর্ত্তীণ হয়েছে তারা ঠাঁই পেয়েছেন।
এদিকে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগ এনে সুপারভাইজার ও তথ্যসংগ্রহকারী পদে বঞ্চিতদের একাংশ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট/২৬) উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধনের ঘোষণা দেন। কর্মসূচী পালনে কিছু নিয়োগপ্রার্থী হাজির হলেও তারা কর্মসূচী পালন করতে পারে নাই।
‘আলহামদুলিল্লাহ, ছাত্রলীগ জিতে গেছে’ মন্তব্য করে ফেসবুকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন অচিন্তপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য মাহবুব হোসেন। তিনি আরও লিখেন, ছাত্রলীগ নেতা বিজয়ী হওয়ায় সেই সুখে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলাম।
অচিন্তপুর ইউনিয়নের মহিবুর রহমান জানান, এ ইউনিয়নে লিখিত পরীক্ষায় সুপারভাইজার পদে মশিউর রহমান রিদয়, মোছা. নুরে হাবিবা ও সোহানুর রহমান উর্ত্তীণ হয়। লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও অচিন্তপুর ইউনিয়নে সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পেয়েছে নুর মোহাম্মদ। এটা কীভাবে সম্ভব হলো!
অপর একটি সূত্র জানায়, শহিদুল ইসলামের পুত্র নুর মোহাম্মদ অচিন্তপুর ইউনিয়নে তথ্য সংগ্রহকারী হিসাবে আবেদন করেছে, এ পদে লিখিত পরীক্ষাও দিয়েছে। তবে উত্তীর্ণ হয়েছে সুপারভাইজার পদে! ফ্যামিলি কার্ড শুমারি পরীক্ষার ফলাফলে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রকাশিত ফলাফলকে ‘তামাশা’ আখ্যা দিয়ে ফেসবুক মন্তব্য করেছেন আলিফ মাহমুদ, জয়নাল আবেদিন। চাকুরী প্রার্থী ফাইরুজ হুমাইরা কর্ন জানান, পিউর দুর্নীতি। আরশাদুল হক জানান, পরীক্ষা দিছে না, ভাইবাও দিছে না এমন লোকজনও বিজয়ী তালিকায় তাদের নাম দেখলাম।
উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১১জন সুপারভাইজার ও উপজেলার ১১জন করে তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগে পেয়েছে মইলাকান্দা ইউনিয়ন, গৌরীপুর সদর, সহনাটী, বোকাইনগর ইউনিয়নে ১২জন, রামগোপালপুর ও ডৌহাখলা ইউনিয়নে ১৪জন করে এবং ১০জন করে মাওহা, ভাংনামারী, সিধলা ইউনিয়নে তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগ প্রদান করা হয়। চুড়ান্ত নিয়োগ দেন নিয়োগ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পা, সদস্য সচিব উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মাহফুজ ইববে আইয়ুব ও সদস্য সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেহানা আক্তার খাতুন।