টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা ও ভাংচুর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাচন অফিসের ডেটা এন্টি অপারেটর আমজাদ হোসেন এবং স্ক্যানিং অপারেটর সুমন আহত হয়েছেন। সোমবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাচন অফিসে এ ঘটনা ঘটে ৷ গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন ভূইঞা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
খবর পেয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ও গোপালপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তুহিন হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
প্রত্যক্ষদশীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকত ও পৌর বিএনপির সভাপতি খালিদ হাসান উথান নির্বাচন কার্যালয়ে যান। এ সময় নির্বাচন অফিসের আমজাদ হোসেনের সাথে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় তাদের সাথে থাকা এক কর্মী আমজাদ হোসেনের গায়ে আঘাত করে। এ সময় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম এসে বিষয়টি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর কিছুক্ষণ পরে তাদের কর্মী সমর্থকরা এসে নির্বাচন অফিসে প্রবেশ করে ভাঙ্গচুর করে। এ সময় তিন জন আহত হন।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, সোমবার সকালে হঠাৎ করে বিএনপি'র প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন নেতাকর্মী উপজেলা নির্বাচন অফিসে এসে নির্বাচন অফিসারের উপর হামলা করে। তারা স্টাফদের মারধর করে। এসময় নির্বাচন অফিস ভাংচুর এবং অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিড়ে ফেলে তারা। এসময় নির্বাচন অফিসের বাইরেও প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী ছিলেন।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসের সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু রায়হান বলেন, উপজেলা নির্বাচন অফিসারসহ ৩ জন আহত হয়েছে৷ আমরা সম্প্রতি অফিসের কিছু দালালচক্র সুবিধা করতে পারতেছিলো না ৷ এজন্য হামলা হতে পারে।
হামলার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকত বলেন, নির্বাচন অফিসার নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপকের্মর সাথে জড়িত। আমাদের কাছে অনেক ভুক্তভোগি বহুবার অভিযোগ করেছে। এর প্রেক্ষিতে আমরা নির্বাচন অফিসে গিয়েছিলাম স্থানীয় বাসিন্দাদের না ভোগানোর জন্য অনুরোধ করতে গিয়েছিলাম। আমরা ভুক্তভোগীদের বিষয় নিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তার অফিসে গেলে তিনি দুর্ব্যবহার করেন। আমাদের কেউ তাদের উপর হামলা করেনি।
উপজলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খাইরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন অফিসের আমজাদ হোসেন আমাদের এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। আমরা তাকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছি।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তুহিন হোসেন বলেন, নির্বাচন অফিসের কাচের দরজা ভেঙ্গেছে। একজন আহাত হয়েছে। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন অফিসের সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, আমি ঘটনাস্থলে রয়েছি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। সরকারি অফিস ভাংচুর ও সরকারি কর্মকর্তার গায়ে আঘাত করার কারণে একটি মামলা দায়ের করা হবে, মামলার প্রক্রিয়াধীন চলছে।
এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, আমরা পরিদর্শন করে দেখলাম সরকারি অফিসে ভাংচুর করা হয়েছে,যদি নির্বাচন অফিসারের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকতো তাহলে লিখিত অভিযোগ দিতে পারতো। এ বিষয়ে নির্বাচন অফিসার অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন ভূইঞা জানান, আহত একজনকে উদ্ধার করে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনা নির্বাচন অফিস কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দেবেন বলে আমাদের জানিয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।